ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে এ অঞ্চলের প্রাধান্য ছিল। দক্ষিণাঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর অবহেলায় উন্নয়ন বঞ্চিত থেকে যায়। ফলে উভয় অংশে আঞ্চলিক বৈষম্য প্রকট হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলে বেঞ্জামিন নামে এক জননেতার উত্থান হয়। তিনি আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের জন্য ১০ দফা কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁর এ আন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ ব্যাপক সমর্থন জানায়। শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থান থেকে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ. পরিগ্রহ করে।

  1. ক)

    তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের কোন আন্দোলনের মিল রয়েছে? ব‍্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বলতে বোঝায় বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অভিন্ন মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একাত্মতাবোধ গড়ে তোলা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বতন্ত্র বাঙালি জাতিসত্তা এবং অধিকার রক্ষার প্রেরণা থেকেই এই চেতনার উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনের গভীর মিল রয়েছে (উদ্দীপকে রূপক অর্থে ১০ দফা ও অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ থাকলেও প্রেক্ষাপটটি মূলত ঐতিহাসিক ৬ দফা স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে)।

    উদ্দীপকে একটি দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল কর্তৃক অপর অঞ্চলের ওপর তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে দক্ষিণাঞ্চলের নেতা যে কর্মসূচিভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন গড়ে তোলেন, তা ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থান ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়।

    বাস্তবে পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চরম অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক '৬ দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এই কর্মসূচি পূর্ব বাংলার গণমানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয় এবং কালক্রমে তা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত আন্দোলনের (অর্থাৎ ৬ দফা ও পরবর্তীতে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপ নেওয়া আন্দোলনের) গুরুত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে কীভাবে একটি কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলন সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থান হয়ে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:

    ১. বাঙালির মুক্তির সনদ: বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের স্বরূপ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়। ফলে এটি 'বাঙালির বাঁচার দাবি' বা 'ম্যাগনা কার্টা' হিসেবে গণ্য হয়।
    ২. ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তি: ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন তৎকালীন ছাত্র সমাজের ১১ দফাসহ বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলে, যা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয় এবং আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পতন ঘটায়।
    ৩. ১৯৭০-এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ: এই আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট প্রদান করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার করলে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের মতো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলনটিও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন