বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধে বলেন-"আমি শুধু রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি নাই, সমাজের, জাতির, দেশের বিরুদ্ধে আমার সত্য-তরবারির তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তার জন্য ঘরে বাইরের বিদ্রুপ, অপমান, লাঞ্ছনা, আঘাত আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে।
- ক)(1)
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে কার 'মরম বেদনা' বলেছেন?
- খ)(2)
"মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।"-উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি বিদ্রোহী' কবিতার মূলসুরকে সর্বাংশে ধারণ করেনি।" তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে 'বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস' ও 'বঞ্চিতের মরম বেদনা' বলেছেন (এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কবি নিজেকে 'বঞ্চিতের' মরম বেদনা বলেছেন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে কবির চেতনার দ্বৈত রূপ—একদিকে প্রেম, কোমলতা ও সৌন্দর্য, অন্যদিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক সংগ্রামের রূপটি ফুটে উঠেছে।
কাজী নজরুল ইসলামের কবিসত্তা একই সাথে সৃষ্টি ও ধ্বংসের প্রতীক। 'বাঁকা বাঁশের বাঁশরী' হলো প্রেম, শান্তি, সৌন্দর্য ও ভালোবাসার প্রতীক; আর 'রণ-তূর্য' হলো শোষণ, অত্যাচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান। কবি একদিকে যেমন প্রেমে আত্মহারা হতে জানেন, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে অস্ত্র তুলতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। এই বহুমুখী সত্তার সমন্বয় বোঝাতেই কবি উক্তিটি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সকল অন্যায়, অবিচার, শোষণ এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে কবির আপসহীন বিদ্রোহ ঘোষণার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, সমাজের জীর্ণ সংস্কার এবং শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি মহাপ্রলয়ের রূপ ধরে সবকিছু ধ্বংস করে নতুন মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' রচনার যে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও দেখা যায় যে তিনি কেবল অত্যাচারী রাজার বিরুদ্ধেই নয়, বরং সমাজের যাবতীয় অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও সত্যের তরবারি দিয়ে আক্রমণ চালিয়েছেন। এজন্য তাঁকে নানা লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে। উদ্দীপকের এই প্রচলিত অচলায়তন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক বিদ্রোহের দিকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার বিদ্রোহী ভাবাদর্শের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলসুরকে সর্বাংশে ধারণ করেনি"—মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কালজয়ী কবিতা, যেখানে কবির আত্মজাগরণ, প্রচণ্ড ধ্বংসের শক্তি এবং সৃষ্টির আনন্দ অপূর্বভাবে সমন্বিত হয়েছে। কবিতায় কবি নিজেকে চির-বিদ্রোহী ঘোষণা করেছেন, যিনি একই সঙ্গে সৃষ্টি, ধ্বংস ও প্রেমের প্রতীক। তিনি শুধু পরাধীনতার বিরোধিতাই করেননি, বরং নিজেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি হিসেবে অনুভব করে শোষিত ও নিপীড়িতের মুক্তি চেয়েছেন এবং অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ স্তব্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে উদ্দীপকে নজরুল ইসলামের 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধের যে অংশ তুলে ধরা হয়েছে, তাতে মূলত সমাজ, জাতি ও রাজার বিরুদ্ধে কবির সত্য উচ্চারণ এবং এর জন্য সামাজিক বিদ্রুপ, লাঞ্ছনা ও আঘাত পাওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকটি নজরুলের বিদ্রোহী জীবনের সামাজিক সংঘাত ও বাস্তব প্রতিকূলতার দিকটিতে আলোকপাত করেছে।
কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল সুর নিছক সামাজিক বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা মহাজাগতিক আত্মশক্তির প্রকাশ, ধ্বংসের পর নতুনের সৃষ্টি, প্রেম ও রণরঙ্গের যুগপৎ প্রকাশ এবং নিপীড়িত মানবতার সার্বিক মুক্তির প্রত্যয়ে ঋদ্ধ। উদ্দীপকে কবিতার এই মহাজাগতিক ব্যাপ্তি, প্রেম-দ্রোহের অপূর্ব মিথস্ক্রিয়া এবং সৃষ্টিশীল আনন্দের দিকটি ফুটে ওঠেনি। তাই উদ্দীপকটি কবিতার মূলসুরের কেবল একটি খণ্ডাংশ ধারণ করেছে, সর্বাংশ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও