যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
শেফালী বলল, “প্রাণীদের ক্ষুধা, তৃষ্ণাআছে এবং এরা মারাও যায়।” শিউলি বলল, "এছাড়াও মানুষ পোশাক পরে, ছবি আঁকে, গানও গাইতে পারে।"
- ক)(1)
লক্ষণ কী?
- খ)(2)
বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?
- গ)(3)
শেফালীর উক্তি কোন ধরনের বিধেয়কের নির্দেশক? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শেফালী ও শিউলির বক্তব্যে যে দু'প্রকার বিধেয়ক রয়েছে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের মূল বা আবশ্যিক জাত্যর্থ গঠন করে এবং যা ওই পদকে তার সমজাতীয় অন্যান্য পদ থেকে আলাদা করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ (Differentia) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়, কারণ তাদের স্বরূপ ও পরিধিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
প্রথমত, বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ—যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক কোনো পদ নয়, বরং সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের পারস্পরিক সম্পর্কের রূপ বা ধরন। দ্বিতীয়ত, নঞর্থক বাক্যেও বিধেয় পদ থাকতে পারে, কিন্তু বিধেয়ক কেবল সদর্থক বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্বন্ধেই সম্ভব। সুতরাং, বিধেয় হলো একটি দৃশ্যমান উপাদান বা পদ, আর বিধেয়ক হলো একটি সম্পর্কের ধারণা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেফালীর উক্তি 'উপলক্ষণ' (Proprium) নামক বিধেয়কের নির্দেশক।
শেফালী বলেছে, "প্রাণীদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা আছে এবং এরা মারাও যায়।" এখানে বিধেয় গুণগুলো (ক্ষুধা-তৃষ্ণা থাকা, মরণশীলতা) প্রাণীর জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থ নয়, কিন্তু পদের মূল জাত্যর্থ থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই নিঃসৃত বা উদ্ভূত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। প্রাণীর মৌলিক জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি'। এই জীববৃত্তি থাকার ফলেই ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মরণশীলতা অপরিহার্যভাবে দেখা দেয়। যেহেতু শেফালীর উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি জীববৃত্তি থেকে নিঃসৃত অনিবার্য ফল, তাই এটি উপজাতিগত উপলক্ষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেফালীর বক্তব্যে 'উপলক্ষণ' এবং শিউলির বক্তব্যে 'অবান্তর লক্ষণ' প্রকাশ পেয়েছে। নিচে এ দু'প্রকার বিধেয়কের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: যে গুণ জাত্যর্থের সরাসরি অংশ নয়, কিন্তু মূল জাত্যর্থ থেকে সরাসরি নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে (যেমন শেফালীর উল্লেখিত ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও মরণশীলতা)। অন্যদিকে, যে গুণ জাত্যর্থও নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে (যেমন শিউলির উল্লেখিত পোশাক পরা, ছবি আঁকা, গান গাওয়া)।
২. আবশ্যিকতার মাত্রা: উপলক্ষ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে আবশ্যিক ও অনিবার্য। জীববৃত্তি থাকলে ক্ষুধা-তৃষ্ণা থাকবেই এবং প্রাণী মারা যাবেই। কিন্তু অবান্তর লক্ষণ আবশ্যিক নয়। মানুষ হলেও সে ছবি নাও আঁকতে পারে, গান নাও গাইতে পারে। এগুলো ঐচ্ছিক ও আকস্মিক গুণ।
৩. ব্যাপ্তি ও নিশ্চয়তা: উপলক্ষণ ওই শ্রেণির সকল সদস্যের মধ্যে সমানভাবে বিদ্যমান থাকে এবং এর কার্যকারণ সম্পর্ক জাত্যর্থের সাথে জড়িত। অপরপক্ষে, শিউলির বক্তব্যে মানুষের যেসব গুণের উল্লেখ রয়েছে, তা সকল মানুষের ক্ষেত্রে একভাবে প্রযুক্ত নাও হতে পারে বা পরিবর্তনযোগ্য।
৪. সাদৃশ্য: উভয় বিধেয়কই উদ্দেশ্যের জাত্যর্থ বা সারসত্তার অংশ নয়—উভয়েই মূল জাত্যর্থের বাইরে অবস্থিত অতিরিক্ত গুণাবলি।
সুতরাং, শেফালী ও শিউলির বক্তব্যের বিধেয়ক দুটির সম্পর্ক হলো অপরিহার্য কার্যকারণজাত গুণ (উপলক্ষণ) এবং অনাবশ্যক আকস্মিক গুণ (অবান্তর লক্ষণ)-এর তুলনামূলক সম্পর্ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও