অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও :
- ক)(1)
ভোক্তা মূল্য সূচক কী?
- খ)(2)
নির্দিষ্ট আয়ের লোকের উপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত দুটি পদক্ষেপের মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তা মূল্য সূচক (Consumer Price Index বা CPI) হলো এমন একটি পরিমাপক সূচক, যার সাহায্যে কোনো নির্দিষ্ট ভিত্তি বছরের তুলনায় চলতি বছরে নির্দিষ্ট একগুচ্ছ ভোগ্যপণ্য ও সেবা সামগ্রী ক্রয়ে ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের বা গড় মূল্যের পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে নির্দিষ্ট আয়ের লোকের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে বাজারে দ্রব্যসামগ্রী ও সেবার সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠী (যেমন: বেতনভোগী কর্মচারী, পেনশনভোগী, দিনমজুর)-এর আর্থিক বা নামমাত্র আয় স্বল্পমেয়াদে স্থির বা অপরিবর্তিত থাকে। ফলে তারা আগের পরিমাণ অর্থ দিয়ে পূর্বের তুলনায় কম দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করতে পারে, অর্থাৎ তাদের প্রকৃত আয় হ্রাস পায়। এতে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায় এবং সঞ্চয় কমে জীবনযাত্রার মানে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগ বা নির্দিষ্ট উৎপাদন স্তরে সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়, তাকে চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull Inflation) বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে উৎপাদনের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে দামস্তর দেখানো হয়েছে। চিত্রে AS হলো উল্লম্ব মোট যোগান রেখা, যা অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগের স্তর OM নির্দেশ করে। অর্থাৎ এই উৎপাদন স্তরের পর যোগান আর বাড়ানো সম্ভব নয়।
প্রাথমিকভাবে সামগ্রিক চাহিদা রেখা হলো AD₀। এই অবস্থায় মোট চাহিদা ও মোট যোগানের ভারসাম্য বিন্দু E₀-তে নির্ধারিত দামস্তর হলো P₀ এবং উৎপাদন OM। এখন কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেলে চাহিদা রেখাটি ডানদিকে সমান্তরালভাবে স্থানান্তরিত হয়ে AD₁ হয়। কিন্তু পূর্ণ নিয়োগ বিরাজ করায় মোট উৎপাদন OM-এর অতিরিক্ত বাড়ানো সম্ভব হয় না (AS স্থির থাকে)। ফলে নতুন ভারসাম্য বিন্দু E₁-তে সামগ্রিক যোগান ও বর্ধিত সামগ্রিক চাহিদার সমতার প্রেক্ষিতে দামস্তর P₀ থেকে বেড়ে P₁ হয়। চিত্রে দামস্তরের এই P₀ থেকে P₁ পর্যন্ত বৃদ্ধিই হলো চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধানত রাজস্ব নীতির (Fiscal Policy) মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। নিচে সরকারের গৃহীত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মূল্যায়ন করা হলো:
১. সরকারি ব্যয় হ্রাসকরণ:
মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন সময়ে সরকার তার অপ্রয়োজনীয় ও অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন করতে পারে। সরকার যখন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক খাত কিংবা সামাজিক ব্যয়ে কাটছাঁট করে, তখন অর্থনীতিতে জনগণের হাতে অর্থের প্রবাহ বা সামগ্রিক ব্যয়ের পরিমাণ সরাসরি হ্রাস পায়। এর ফলে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমে এবং দামস্তরের উপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও উৎপাদনশীল অবকাঠামোগত ব্যয় কমালে তা দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সতর্কতার সাথে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত কার্যকর।২. প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি ও নতুন কর আরোপ:
মুদ্রাস্ফীতি রোধে সরকার প্রত্যক্ষ করের (যেমন: আয়কর, সম্পদ কর) হার বৃদ্ধি করতে পারে কিংবা নতুন কর আরোপ করতে পারে। করের হার বৃদ্ধি পেলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় (Disposable Income) হ্রাস পায়। ফলে তাদের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ও ক্রক্ষমতা কমে যায়, যা সামগ্রিক চাহিদা (AD) হ্রাসে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। ফলশ্রুতিতে বাজারে পণ্যের চাহিদা সংকুচিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়। তবে অতিমাত্রায় কর আরোপ করা হলে তা মানুষের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ স্পৃহাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, তাই ভারসাম্য বজায় রেখে করনীতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।পরিশেষে বলা যায়, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং উপযুক্ত করনীতির সফল প্রয়োগ সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি প্রশমনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও