রসায়ন ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
রসায়নাগারে অতি সতর্কতার সাথে যে সকল পদার্থ ব্যবহৃত হয় তা হলো-i. গাঢ় সালফিউরিক এসিডii. তরল অ্যামোনিয়াiii. সোডিয়াম ধাতুiv. পটাসিয়াম ফেরোসায়ানাইড
- ক)(1)
ক্রোমাটোগ্রাফী কী?
- খ)(2)
Na+Na^+ ও F′+^{F'+} এর মধ্যে কোনটির আকার বড়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের (i) ও (iii) এর সাথে সরাসরি পানি যুক্ত করা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পদার্থগুলো অধিক ব্যবহার পরিবেশের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ভৌত পৃথকীকরণ পদ্ধতিতে উপযুক্ত স্থির মাধ্যম ও সচল মাধ্যমের মধ্যে কোনো মিশ্রণের বিভিন্ন উপাদানের বণ্টন মাত্রার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে উপাদানসমূহকে পৃথক করা হয়, তাকে ক্রোমাটোগ্রাফী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নে উল্লেখিত সম-ইলেকট্রনীয় আয়নদ্বয় হলো Na⁺ এবং F⁻ (মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে F'⁺ বা F⁻ লিখিত)।
উভয় আয়নের ক্ষেত্রেই ইলেকট্রন সংখ্যা ১০টি। Na⁺ এর পারমাণবিক সংখ্যা ১১, অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে ১১টি প্রোটন বিদ্যমান; অন্যদিকে F⁻ এর পারমাণবিক সংখ্যা ৯, অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে ৯টি প্রোটন বিদ্যমান।
সমসংখ্যক ইলেকট্রনযুক্ত অ্যানায়ন ও ক্যাটায়নের মধ্যে যেটির নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা বেশি, তার কার্যকরী নিউক্লীয় আকর্ষণ বেশি হয়। Na⁺-এ ১১টি প্রোটন ১০টি ইলেকট্রনকে অধিক শক্তিতে আকর্ষণ করে সংকুচিত করে। অন্যদিকে F⁻-এ ৯টি প্রোটন ১০টি ইলেকট্রনকে তুলনামূলক কম শক্তিতে আকর্ষণ করে। ফলে F⁻ আয়নের আকার Na⁺ অপেক্ষা বড় হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের (i) হলো গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং (iii) হলো সোডিয়াম ধাতু (Na)।
১. গাঢ় H₂SO₄ এর সাথে সরাসরি পানি যুক্ত না করার কারণ: গাঢ় H₂SO₄ এর সাথে পানি মিশ্রিত করার বিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র তাপোৎপাদী। যদি এসিডে সরাসরি পানি ঢালা হয়, তবে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপে পানি তাৎক্ষণিকভাবে বাষ্পীভূত হয় এবং এসিড ছিটকে এসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ও দহন সৃষ্টি করতে পারে। তাই সর্বদা ধীরে ধীরে পানির মধ্যে এসিড যোগ করে নাড়তে হয়।
২. সোডিয়াম ধাতুতে সরাসরি পানি যুক্ত না করার কারণ: সোডিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় ক্ষার ধাতু। এটি পানির সাথে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র তাপোৎপাদী বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন করে (2Na + 2H₂O → 2NaOH + H₂ + তাপ)। উৎপন্ন তাপে হাইড্রোজেন গ্যাস তৎক্ষণাৎ বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রজ্বলিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। তাই সোডিয়ামে সরাসরি পানি যুক্ত করা যায় না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পদার্থগুলোর অত্যধিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গাঢ় H₂SO₄: এটি ব্যবহারে উৎপন্ন বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে উন্মুক্ত হলে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায় এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। জলজ উৎসে পতিত হলে পানির pH হ্রাস পেয়ে জলজ প্রাণী ও মাছের মৃত্যু ঘটে। এর উদ্বায়ী ধোঁয়া বা বাষ্প বায়ুতে মিশে অম্লবৃষ্টি (Acid Rain) সৃষ্টি করে যা উদ্ভিদ ও স্থাপত্যের ক্ষতিসাধন করে।
২. তরল অ্যামোনিয়া (NH₃): অ্যামোনিয়ার মাত্রাতিরিক্ত নির্গমন বায়ুদূষণ ঘটায় এবং এটি জীবদেহের শ্বসনতন্ত্রের ক্ষতি করে। জলাশয়ে অ্যামোনিয়া মিশলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ দ্রুত বেড়ে ইউট্রোফিকেশন ঘটায়, যা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে জলজ প্রতিবেশ বিনষ্ট করে।
৩. সোডিয়াম ধাতু (Na): এটি বর্জ্য হিসেবে থাকলে আর্দ্রতার সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে ক্ষার (NaOH) উৎপন্ন করে, যা মাটির ক্ষারত্ব বৃদ্ধি করে মাইক্রোবায়োটা নষ্ট করে এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
৪. পটাসিয়াম ফেরোসায়ানাইড [K₄[Fe(CN)₆]]: দীর্ঘমেয়াদে বা তীব্র এসিডের উপস্থিতিতে কিংবা সূর্যালোকের প্রভাবে এটি ভেঙে বিষাক্ত সায়ানাইড যৌগ তৈরি করতে পারে, যা জলাশয়ে মিশলে মাছ ও জলজ জীবের মারাত্মক বিষক্রিয়া ও মৃত্যুর কারণ হয়।
অতএব, পরিবেশ সুরক্ষায় এ সকল রাসায়নিক পদার্থের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও