সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সামাজিক বিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

    (1)
  2. খ)

    সুশাসন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক কাঠামো সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞানের কোন ধরনের প্রয়োগকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'বহুমুখী ও বিচিত্র ধরনের সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্দীপক কাঠামোর জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Social Science' (সোশ্যাল সায়েন্স)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন (Good Governance) বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জনগণের অংশগ্রহণ, সমতা এবং দক্ষতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করাই সুশাসনের মূল লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কাঠামো সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞানের 'বহুমাত্রিক ও সমন্বিত জ্ঞান' (Interdisciplinary knowledge) প্রয়োগকে ইঙ্গিত করে।

    সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী এবং সমন্বিত ব্যবহারিক বিজ্ঞান। উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজকর্মের মূল বৃত্তটিকে ঘিরে সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পৌরনীতি, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান ও জনবিজ্ঞান আন্তঃসম্পর্কিত হয়ে অবস্থান করছে।

    সমাজকর্ম পেশাগতভাবে মানুষের বহুমুখী সমস্যা নিয়ে কাজ করে। মানুষের সমস্যা সমাধান করতে হলে তার জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি। এজন্য সমাজকর্ম মনোবিজ্ঞান থেকে মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া, সমাজবিজ্ঞান থেকে সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, পৌরনীতি থেকে অধিকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি থেকে সম্পদ ও আর্থিক দিক, নৃবিজ্ঞান থেকে মানবসংস্কৃতি এবং জনবিজ্ঞান থেকে জনসংখ্যাসংক্রান্ত জ্ঞান আহরণ করে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে। সুতরাং, উদ্দীপকটি বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞানের শাখাগুলোর সমন্বিত জ্ঞানভাণ্ডারের পেশাগত প্রয়োগকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি যথার্থ; কারণ আধুনিক জটিল সমাজের বহুমুখী ও বিচিত্র ধরনের সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্দীপক কাঠামোর আন্তঃশাস্ত্রীয় বা সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব।

    উদ্দীপকের কাঠামোতে সমাজকর্মের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পৌরনীতি, নৃবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও জনবিজ্ঞানের গভীর সম্পর্ক ও মেলবন্ধন দেখানো হয়েছে। মানুষের জীবন ও সমস্যা একমুখী নয়; বরং জৈবিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে মানুষ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। ফলে কোনো একক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে জটিল সমস্যার সামগ্রিক রূপ উদ্ঘাটন করা যায় না।

    উদাহরণস্বরূপ—
    ১. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব মোকাবিলায় অর্থনীতির নীতি এবং সামাজিক কাঠামোর প্রভাব বুঝতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন।
    ২. অপরাধপ্রবণতা, হতাশা বা পারিবারিক কলহের মতো জটিল সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করতে মনোবিজ্ঞানের অন্তর্দৃষ্টি দরকার।
    ৩. নাগরিক অধিকার, দায়িত্ব এবং সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে পৌরনীতির জ্ঞান অপরিহার্য।
    ৪. জনসংখ্যার চাপ ও স্থানান্তরজনিত সংকট বুঝতে জনবিজ্ঞানের তথ্য সাহায্য করে এবং মানুষের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মূল্যায়নে নৃবিজ্ঞান পথ দেখায়।

    সমাজকর্ম এসকল শাস্ত্রীয় জ্ঞানের সুসমন্বয় ঘটিয়ে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সম্প্রদায়ের সমস্যাকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান দেয়। অতএব, বলা যায় বহুমুখী সমস্যার কার্যকর সমাধান কেবল উদ্দীপকে প্রদর্শিত সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন