পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাসেল ও মুশফিক একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। তারা দুইজন দুটি আলাদা সংগঠনের সাথে জড়িত। রাসেলের সংগঠনটি সবসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করে। অপরদিকে, মুশফিকের সংগঠনটি নিজেদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করে থাকে এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে রাখার চেষ্টা করে।
- ক)(1)
সুশাসন কী?
- খ)(2)
বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুশফিকের সংগঠনটি কোন ধরনের সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠন দুটির তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন হলো এমন একটি জনকল্যাণমুখী, দক্ষ ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা যেখানে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে এমন একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে দুইয়ের অধিক স্বাধীন রাজনৈতিক দল সাংবিধানিক নিয়মে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি চর্চা করে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পায়। এ ব্যবস্থায় ভোটারদের সামনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী ও মতাদর্শের সুযোগ থাকে এবং সরকারি দলের পাশাপাশি একাধিক বিরোধী দল আইনসভায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুশফিকের সংগঠনটি একটি 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী' (Pressure Group)।
যেসব সংগঠিত গোষ্ঠী প্রত্যক্ষভাবে সরকারি ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠনের চেষ্টা না করে কেবল তাদের নিজস্ব সদস্যদের স্বার্থরক্ষা ও সরকারি সিদ্ধান্ত বা নীতিমালাকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়, তাদের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুশফিকের সংগঠনটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে চায় না; বরং তারা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণকে নিজেদের পক্ষে রাখতে নানামুখী তদবির বা চাপ প্রয়োগ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল চরিত্রকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাসেলের সংগঠনটি হলো 'রাজনৈতিক দল' এবং মুশফিকের সংগঠনটি হলো 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী'। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. উদ্দেশ্যের ভিন্নতা: রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। পক্ষান্তরে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; তাদের মূল লক্ষ্য সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজস্ব গোষ্ঠীস্বার্থ আদায় করা।
২. সদস্যপদ ও স্বার্থের পরিধি: রাজনৈতিক দল জাতীয় ও সামষ্টিক স্বার্থ নিয়ে কাজ করে এবং এর সদস্যপদ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী একটি বিশেষ পেশা বা শ্রেণির সংকীর্ণ স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে (যেমন: শিক্ষক সমিতি, চেম্বার অব কমার্স ইত্যাদি)।
৩. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা: রাজনৈতিক দল দেশ ও জাতির সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী থাকে। অপরদিকে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কেবল তার নিজস্ব সদস্যদের নিকট দায়বদ্ধ, সমগ্র জনগণের কাছে নয়।
৪. নির্বাচনে অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এবং প্রচারণা চালায়। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, তবে নির্বাচনের পর কোনো দলকে পরোক্ষ সমর্থন বা প্রভাবিত করতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে; একটি সরকার পরিচালনা করে, অন্যটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও