সমাজকর্ম ২য় পত্র • বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

উচ্চ শিক্ষিত বিধান একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার এ প্রতিষ্ঠান থেকে মূলত দুঃস্থ, অসহায়, নারী, ভূমিহীন এবং প্রায়
ভূমিহীনদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া হয়। দলীয় ভিত্তিতে এ ঋণ দেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু ঋণ দেয়াই হয় না, বরঞ্চ ঋণের
ব্যবহার তদারকি করে তা সঠিকভাবে আদায়ও করা হয়। ঋণ গ্রহীতারা কেবল এর সদস্য নয় বরং মালিকও।

  1. ক)

    ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    প্রবীণ হিতৈষী সংঘের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বিধানের প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের সাথে বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য সামঞ্জস্যপূর্ণ? নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিধানের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের একটি নিজস্ব মূল্যায়ন উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্র্যাকের (BRAC) প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রবীণ হিতৈষী সংঘের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রবীণদের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবনযাপনে সহায়তা করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিধানের প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের সাথে বাংলাদেশের 'গ্রামীণ ব্যাংক' (Grameen Bank)-এর বৈশিষ্ট্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    গ্রামীণ ব্যাংকের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি গ্রামীণ দরিদ্র, নিঃস্ব, ভূমিহীন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে নারীদের জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে থাকে। এ ব্যবস্থায় ঋণগ্রহীতাদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে দলীয় ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ এবং তদারকির মাধ্যমে ঋণ আদায় নিশ্চিত করা হয়। তাছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের সিংহভাগ মালিকানা ঋণগ্রহীতা সদস্যদের হাতে ন্যস্ত থাকে।

    উদ্দীপকে বিধানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিও দুঃস্থ, ভূমিহীন নারীদের জামানত ছাড়া দলীয় ভিত্তিতে ঋণ দেয়, ঋণের সঠিক ব্যবহার তদারকি করে আদায় নিশ্চিত করে এবং ঋণগ্রহীতারাই এর মালিক। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কাঠামোর প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধানের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গ্রামীণ ব্যাংকের মডেলের অনুরূপ, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিচে এর মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: জামানতবিহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকায় চরম দরিদ্র ও ভূমিহীন ব্যক্তিরা ক্ষুদ্র ব্যবসা বা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারে।
    ২. নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ মহিলাদের অগ্রাধিকার দিয়ে আর্থিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
    ৩. নিবিড় তদারকি ও অপব্যবহার রোধ: ঋণের ব্যবহারের ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করায় অর্থ অপচয় না হয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয় এবং যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ সম্ভব হয়।
    ৪. মালিকানা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি: ঋণগ্রহীতারা কেবল গ্রাহক নন, বরং প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ায় তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

    পরিশেষে বলা যায়, বিধানের প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুদের মহাজনি শোষণ থেকে রক্ষা করে সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন