‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মহিবুল উচ্চশিক্ষার জন্য 'ক' রাষ্ট্রে গেছেন। এটি একটি উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন। রাজনৈতিক দলগুলো সুসংহত। এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। সময় মতো দলগুলোর সম্মেলন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতা নির্বাচিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এতে করে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এদেশের নেতারা দেশপ্রেমিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান।

  1. ক)

    'অধ্যাপক' কোন ধরনের নেতৃত্ব?

    (1)
  2. খ)

    সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোন ধরনের? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অধ্যাপক' হলেন বিশেষজ্ঞ বা বুদ্ধিবৃত্তিক (Intellectual) ধরনের নেতৃত্ব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নেতার ব্যক্তিগত গুণাবলি, জাদুকরি বা আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও বাগ্মিতার মাধ্যমে যখন তিনি সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করেন, তখন তাকে সম্মোহনী বা ক্যারিশম্যাটিক (Charismatic) নেতৃত্ব বলে। এ ধরনের নেতৃত্বের প্রতি অনুসারীরা অন্ধভাবে আস্থা রাখে এবং নেতার আহ্বানে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকে। যেমন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্ব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Democratic Leadership)।

    গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. জনগণের মতামতের মূল্যায়ন: এ ধরনের নেতৃত্ব একনায়কতান্ত্রিক নয়; এখানে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়।
    ২. দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা: উদ্দীপকের মতো নিয়মিত সম্মেলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতা নির্বাচন করা হয়।
    ৩. সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা: বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং জাতীয় স্বার্থে সকল দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব বজায় থাকে।
    ৪. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা: গণতান্ত্রিক নেতা জনগণের কাছে নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন।
    ৫. দেশপ্রেম ও সততা: এ নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য থাকে জনকল্যাণ, ন্যায়পরায়ণতা এবং নিঃস্বার্থ সেবা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক, সুসংহত এবং দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বিদ্যমান। এর সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. দলীয় গণতন্ত্র চর্চা: 'ক' রাষ্ট্রে নিয়মিত দলীয় সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচিত হয়। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রেই শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছা অনুযায়ী কমিটি গঠিত হয় এবং দলের অভ্যন্তরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক চর্চার কিছুটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।
    ২. পারস্পরিক সহযোগিতা বনাম রাজনৈতিক বৈরিতা: 'ক' রাষ্ট্রে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয় এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা এবং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ বা দ্বন্দ্ব দেখা যায়।
    ৩. রাজনৈতিক সচেতনতা ও সহনশীলতা: 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ সচেতন এবং নেতারা জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। বাংলাদেশে নেতৃত্বের দেশপ্রেম ও ত্যাগ থাকলেও অনেক সময় দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায়।

    পরিশেষে বলা যায়, যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, তথাপি দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের বিকাশ, পারস্পরিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ব্যবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে অধিক পরিণত ও আদর্শ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন