‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্ন দ্বারা যে নেতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৬৩ সালে নওয়াব আব্দুল লতিফ 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কারণ তিনি আজীবন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।

    তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণের অধিকার রক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের একমাত্র উপায় হলো কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং দেশে বিরোধী দলের অবস্থান সংহত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেন। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা ও আজীবন আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' অভিধায় ভূষিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ছাত্র নেতৃত্ব', 'দীর্ঘদিন কারাবরণ', 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' ও 'রাষ্ট্রপ্রধান' নির্দেশনার মাধ্যমে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিচে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১৯৪৮ সালের শুরুতে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করলে শেখ মুজিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে গঠিত 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই বছরের ১১ মার্চ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আহূত সাধারণ ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার হন।

    পরবর্তীকালে কারাবন্দি থাকা অবস্থায়ও তিনি ভাষা আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং দিকনির্দেশনা দিতেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ও মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় ভাষার দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেন, যা আন্দোলনের গতিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছিল। সুতরাং, সূচনালগ্ন থেকেই ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি স্তরে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয় ও দূরদর্শী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে নির্দেশিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও মূখ্য।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল রূপকার। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতির স্বাধিকারের রূপরেখা নির্ধারণ করেন, যা 'বাঙালির মুক্তির সনদ' হিসেবে বিবেচিত। এই ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং বাঙালি জাতি তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁর নাম ও আদর্শে পরিচালিত নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

    পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, কারাবরণ, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য ও অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন