মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : মিসেস জান্নাত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রে আলোচনা ও বক্তৃতা পদ্ধতির মধ্যে কোনটি অধিক কার্যকরী তা যাচাইয়ের জন্য সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষণা করেন।

  1. ক)

    চল কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    বয়স, অভ্যাস, প্রেষণা ইত্যাদিকে মধ্যবর্তী চল বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর B চিহ্নিত স্থানটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ মিসেস জান্নাত ব্যবহৃত পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় চল প্রধানত ৩ প্রকার (অনির্ভরশীল চল, নির্ভরশীল চল এবং মধ্যবর্তী/নিয়ন্ত্রিত চল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গবেষণায় অনির্ভরশীল চলের প্রভাব নির্ভরশীল চলের উপর সরাসরি পড়ার মাঝে যেসব জৈবিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্য ক্রিয়াশীল থাকে এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, সেগুলোকে মধ্যবর্তী চল বলা হয়। বয়স, অভ্যাস, প্রেষণা, ক্লান্তি ইত্যাদি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ এমন বৈশিষ্ট্য যা উদ্দীপক (অনির্ভরশীল চল) এবং প্রতিক্রিয়া (নির্ভরশীল চল)-এর মধ্যে অবস্থান করে আচরণকে পরিবর্তন করতে পারে। সরাসরি পর্যবেক্ষণ বা সবসময় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হওয়ায় এবং এগুলো ফলাফল প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করে বলে এদের মধ্যবর্তী চল (Intervening variable) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে সমস্যার প্রধান উৎসসমূহ নির্দেশ করা হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে গবেষণার জন্য সমস্যা চিহ্নিতকরণের তিনটি প্রধান উৎস রয়েছে—
    ১. জ্ঞানের অভাব বা শূন্যতা (Absence of knowledge)
    ২. পরস্পরবিরোধী ফলাফল (Contradictory results)
    ৩. তথ্যের ব্যাখ্যা (Explanation of a fact)

    অতএব, দৃশ্যকল্প-২ এর 'B' চিহ্নিত স্থানটি নির্দেশ করে 'পরস্পরবিরোধী ফলাফল'।

    ব্যাখ্যা: কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একাধিক গবেষকের গবেষণার ফলাফল যদি পরস্পরবিরোধী বা অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে কেন এই ভিন্নতা সৃষ্টি হলো তা উদ্ঘাটন করার জন্য নতুন গবেষণার প্রয়োজন দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো একটি শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে একজন গবেষক ইতিবাচক ফল পেলেন, অথচ অন্য গবেষক ভিন্ন ফলাফল পেলেন। এই ধরনের বৈপরীত্য দূর করে সত্য অনুসন্ধানের তাগিদ থেকেই নতুন বৈজ্ঞানিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ মিসেস জান্নাত সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পাঠদানের দুটি পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে 'পরীক্ষণ পদ্ধতি' (Experimental method) ব্যবহার করেছেন। নিচে এ পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

    পরীক্ষণ পদ্ধতির সুবিধাসমূহ:
    ১. সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ: এ পদ্ধতিতে পরিবেশ ও মধ্যবর্তী চলগুলোকে সম্পূর্ণ বা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে অনির্ভরশীল চলের সঠিক প্রভাব পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়।
    ২. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: কোনো নির্দিষ্ট কারণের ফলে কী প্রভাব সৃষ্টি হয় (যেমন: আলোচনার ফলে শিখন ভালো হলো কিনা), তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়।
    ৩. পুনরাবৃত্তি বা যাচাইযোগ্যতা: পরীক্ষার শর্তাবলী নির্দিষ্ট থাকায় অন্য যেকোনো গবেষক একই পরিবেশ তৈরি করে ফলাফল পুনঃযাচাই করতে পারেন।
    ৪. ফলাফলের বস্তুনিষ্ঠতা: ব্যক্তিগত পক্ষপাত এড়িয়ে সংখ্যাবাচক ও বৈজ্ঞানিক উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়।

    পরীক্ষণ পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ:
    ১. কৃত্রিম পরিবেশ: ল্যাবরেটরি বা সুনিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশে পরীক্ষণ পাত্রের আচরণ স্বাভাবিক না-ও হতে পারে, যা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সাথে পুরোপুরি মেলে না।
    ২. সবক্ষেত্রে প্রয়োগ অসম্ভব: নৈতিক, সামাজিক বা শারীরিক কারণে মানুষের অনেক আচরণ বা আবেগের ওপর কৃত্রিমভাবে পরীক্ষণ চালানো সম্ভব নয়।
    ৩. ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ: বিশেষ যন্ত্রপাতি, নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষিত গবেষকের প্রয়োজন হওয়ায় এতে প্রচুর সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়।
    ৪. মধ্যবর্তী চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন: মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা মনোভাবের মতো অভ্যন্তরীণ চলগুলোকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন