বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

1.

শৈশবস্মৃতি

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

শৈশবস্মৃতি

ভূমিকা:
মানবজীবনের সবচেয়ে আনন্দময় ও নিষ্পাপ অধ্যায় হলো শৈশব। শৈশব এমন এক মায়াবী সময়, যা পেছনে ফেলে মানুষ যত দূরেই চলে যাক না কেন, তার স্মৃতি সারাজীবন মনের মণিকোঠায় অম্লান হয়ে থাকে। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত ও ব্যস্ততার মাঝেও যখনই শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে, হৃদয় এক অনাবিল প্রশান্তি ও নস্টালজিয়ায় ভরে ওঠে। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায় শৈশব যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অবিচ্ছেদ্য নাড়ির টান।

আমার শৈশবের পটভূমি:
আমার শৈশব কেটেছে এক ছায়াঘেরা, শান্ত-শ্যামল গ্রামে। সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ আর কলকল নাদে বয়ে যাওয়া এক ছোট্ট নদী। দিগন্তজোড়া মাঠ, পাখির কলকাকলি আর মুক্ত হাওয়া ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। নাগরিক জীবনের ইট-কাঠের খাঁচা থেকে দূরে মুক্ত প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলাম বলেই আমার শৈশব ছিল বহু রঙে রঙিন।

খেলাধুলা ও আনন্দের দিনগুলি:
শৈশবের দিনগুলো ছিল বাঁধনহারা উল্লাসের। কোনো জটিলতা বা দুশ্চিন্তা তখন মনকে স্পর্শ করতে পারত না। সাথীদের সঙ্গে গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবাঁধা, হা-ডু-ডু, কানামাছি কিংবা ডাংগুলি খেলায় মেতে থাকতাম। দুপুরের কড়া রোদে বড়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে দলবেঁধে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটার স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে কদম ফুল তোলা আর কাগজের নৌকা বানিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার আনন্দ ছিল অতুলনীয়।

গ্রাম্য প্রকৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যের স্মৃতি:
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের শৈশবের খেলা ও আনন্দও বদলে যেত। বৈশাখ মাসের কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়ানোর ধুম পড়ত। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মাঝে গাছতলায় কাঁচা আম কুড়ানোর আনন্দ আজও শিহরণ জাগায়। শরৎকালে নদীর তীরে কাশফুলের মেলা আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা মনকে দূর অজানায় নিয়ে যেত। শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে মিষ্টি রোদে বসে খেজুরের রস ও মায়ের হাতের গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি ছিল স্বর্গীয়।

পাঠশালার দিনগুলি:
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছিল আমাদের মিলনমেলা। পণ্ডিত মশাইয়ের কড়া শাসন সত্ত্বেও বন্ধুদের সাথে খুনসুটি, টিফিনের ফাঁকে ভাগাভাগি করে খাবার খাওয়া এবং স্কুলের মাঠে মার্বেল খেলার স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে উজ্জ্বল। পরীক্ষার ভয় থাকলেও পড়ালেখার মাঝে কোনো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ছিল না।

উৎসব-আনন্দের স্মৃতি:
শৈশবে ঈদ কিংবা পূজার উৎসব ছিল আনন্দের চূড়ান্ত প্রকাশ। ঈদের নতুন পোশাকের গন্ধ, চাঁদ দেখার উন্মাদনা, সেমাই খাওয়ার ধুম এবং বড়দের কাছ থেকে সালামি পাওয়ার আনন্দ ছিল ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বৈশাখী মেলায় গিয়ে মাটির পুতুল, বাঁশি কিংবা মিষ্টি জিলাপি কেনার অনুভূতি ছিল রাজকীয়।

উপসংহার:
শৈশব চলে যায় কালের নিয়মে, কিন্তু রেখে যায় একরাশ সোনালি স্মৃতি। বর্তমানের যান্ত্রিক জীবন, দায়িত্বের বোঝা ও প্রতিযোগিতার ভিড়ে সেই স্মৃতিগুলোই ক্লান্ত মনের জন্য এক পশলা বৃষ্টির মতো শীতল পরশ এনে দেয়। তাই শৈশব হারিয়ে গেলেও স্মৃতির আঙিনায় তা চিরকাল বেঁচে থাকে অমর হয়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন