পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : একটি দেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনি আলোচনা শুরু করে। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই মতামত প্রকাশ, তর্ক বিতর্ক ও সমালোচনা চলে. কেউ শান্তিপূর্ণভাবে মতভেদ জানায়, কেউ দলীয় আনুগত্যের কারণে ভিন্ন মতকে সহজে মেনে নিতে পারে না। কেউ ভোট দেওয়াকে দায়িত্ব মনে করে, কেউ উদাসীন থাকে। মানুষের একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
দৃশ্যপট-২ : একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে শহরে আলোচনা শুরু হয়। পত্রিকা ও টেলিভিশনে বিষয়টি নিয়ে খবর ও বিশ্লেষণ প্রচারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ মতামত প্রকাশ করে। চা স্টলে সাধারণ মানুষের কথাবার্তাও ছড়িয়ে পড়ে। এ সমস্ত কারণে প্রকল্পটি সম্পর্কে মানুষের একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
- ক)(1)
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাকে বলে?
- খ)(2)
আইনসভা কীভাবে জনমত গঠনে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্যতা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্য দেখাও এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্ণিত বিষয়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি, রাজনৈতিক বিষয়াদি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে মনোভাব, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির সামগ্রিক রূপই হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনসভা হলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মিলনস্থল, যেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ও নীতি নিয়ে গঠনমূলক বিতর্ক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আইনসভায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য, প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ও তর্ক-বিতর্ক সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর ফলে জনগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে এবং সুসংগঠিত জনমত গড়ে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে আমার পঠিত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের 'রাজনৈতিক সংস্কৃতি' (Political Culture) ধারণার সাদৃশ্য রয়েছে।
একটি দেশের জনগণের রাজনীতি, নির্বাচন, দলীয় ব্যবস্থা ও শাসনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সামগ্রিক বিশ্বাস, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলা হয়। দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজনৈতিক আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও মতামত প্রকাশে অংশ নিচ্ছে। কারো মধ্যে তীব্র দলীয় আনুগত্য ও অসহিষ্ণুতা দেখা যাচ্ছে, কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগকে নাগরিক দায়িত্ব মনে করছে, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি উদাসীন রয়েছে। এই বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ মূলত রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে অংশগ্রহণমূলক, আনুগত্যমূলক বা সংকীর্ণ সংস্কৃতির সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। অতএব, উদ্দীপকের দৃশ্যপটটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপ ও গতিপ্রকৃতির সাথে সুস্পষ্টভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে আমার পঠিত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের 'জনমত' (Public Opinion) ধারণার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
জনকল্যাণমূলক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে জনসমষ্টির সুস্পষ্ট, যৌক্তিক এবং সুসংগঠিত অভিমতকেই জনমত বলে। উদ্দীপকে একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা-পর্যালোচনা ও সুস্পষ্ট ধারণা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে, যা মূলত জনমত গঠনের মাধ্যম ও প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমতের ভূমিকা অপরিসীম:
১. সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সচেতন ও সুসংগঠিত জনমত সরকারকে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেয় এবং গৃহীত কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
২. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতি বাস্তবায়নে জনমতের প্রতিক্রিয়া থাকলে প্রশাসন তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধ্য হয়।
৩. নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার: জনমতের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটে, যা সুশাসনের অন্যতম মূল শর্ত।
৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ: জনমত সোচ্চার হলে অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পায় এবং জনগণের কল্যাণে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।সুতরাং বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর করতে জনমত অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও