বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক। যুগ যুগ ধরে শোষিত নিপীড়িত বাঙালিকে তিনিই মুক্তির স্বাদ নিতে পেরেছিলেন। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে বহুবার কারাবরণ করেছেন তিনি। নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে। অথচ নিজ ঘরের দরজায় পরিচিত কয়েকজনকে হন্তারকের ভূমিকায় দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন জাতির পিতা।
- ক)(1)
সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত সাহিত্য-পত্রিকার নাম কী?
- খ)(2)
ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন কেন?
- গ)(3)
দেশের জন্যে আত্মত্যাগ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার তুলনা কর।
- ঘ)(4)
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতোই দেশপ্রেমিক ছিলেন ।’ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত সাহিত্য-পত্রিকার নাম 'সমকাল'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব আলীবর্দী খাঁ তাঁর কনিষ্ঠ দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করায় ক্ষমতার লোভে ও ব্যক্তিগত ঈর্ষায় ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
ঘসেটি বেগমের নিজের কোনো সন্তান ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পালিত পুত্র শওকতজঙ্গকে মসনদে বসিয়ে নেপথ্যে থেকে রাজক্ষমতা পরিচালনা করতে। কিন্তু আলীবর্দী খাঁ যোগ্য বিবেচনা করে সিরাজউদ্দৌলাকে মসনদের উত্তরাধিকারী করায় ঘসেটি বেগমের সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সিংহাসন হারানোর এই তীব্র ক্ষোভ ও সিরাজের প্রতি অন্ধ আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি ইংরেজ ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে হাত মেলান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের মুক্তির প্রশ্নে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের দিক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়ের মধ্যেই গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা অল্প বয়সে বাংলার মসনদে বসে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা রক্ষায় নিজের সিংহাসন, পরিবার এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি কখনোই অন্যায়ের সাথে আপস করেননি।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বাংলার শোষিত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য নিজের যৌবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, শত নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। উভয় নেতাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ব্যক্তিজীবন ও আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে চরম আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতোই দেশপ্রেমিক ছিলেন।’— মন্তব্যটি অনস্বীকার্য এবং সর্বাংশে সত্য।
ঐতিহাসিকভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি ইংরেজ বণিকদের শোষণ ও দুরভিসন্ধি থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন। নিজের প্রাসাদের ভেতরে ও বাইরে মীর জাফর, ঘসেটি বেগমদের মতো কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তিনি স্বদেশপ্রেমে অটল ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকদের হাতেই নির্মমভাবে শহীদ হন।
উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধুর যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেমের এক আধুনিক ও সফল রূপায়ণ। বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন পরাধীন বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার মহান ব্রতে। তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার বিষয় হলো, সিরাজউদ্দৌলার মতো তাঁকেও নিজ দেশের কিছু চক্রান্তকারী ও বিশ্বাসঘাতকের বুলেটের আঘাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে।
সিরাজউদ্দৌলা ও বঙ্গবন্ধু উভয়েই ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। দেশমাতৃকার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এই দুই নেতার লক্ষ্য ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মুক্তি। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম ও ট্র্যাজিক পরিণতি পর্যালোচনা করলে মন্তব্যটির যথার্থতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও