যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

যুক্তিবিদ্যা ক্লাসে শিক্ষক লাবনিকে 'জীব' পদের সংজ্ঞা দিতে বললেন, লাবনি বলল, "জীব নয় জড় পদার্থ।" অন্য একজন ছাত্রী শ্রাবণী 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলল, "মানুষ হয় এমন জীব যাদের দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ আছে।"

  1. ক)

    সংজ্ঞেয় পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    বৃহত্তম জাতির সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    লাবনির উত্তরে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শ্রাবণী-এর উক্তি কি সংজ্ঞার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদটির সংজ্ঞা দেওয়া হয় বা নির্ণয় করা হয়, তাকে সংজ্ঞেয় পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃহত্তম বা পরতম জাতির চেয়ে বড় বা ব্যাপকতর কোনো জাতি থাকে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি এবং বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু পরতম জাতির কোনো ঊর্ধ্বতন বা আসন্নতম জাতি না থাকায় এর যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাবনির উত্তরে যৌক্তিক সংজ্ঞার পঞ্চম নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এর ফলে 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার পঞ্চম নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞা যদি সদর্থক বা ইতিবাচকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তাকে কোনোভাবেই নঞর্থক বা নেতিবাচক ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কোনো পদ কী, তা বলাই সংজ্ঞার কাজ; পদটি কী নয়, তা বলা সংজ্ঞার উদ্দেশ্য নয়।

    উদ্দীপকে শিক্ষক লাবনিকে 'জীব' পদের সংজ্ঞা দিতে বললে সে বলে, "জীব নয় জড় পদার্থ।" 'জীব' পদের একটি স্পষ্ট সদর্থক সংজ্ঞা (যেমন: জীব হলো প্রাণসম্পন্ন সত্তা) থাকা সত্ত্বেও লাবনি 'নয়' শব্দ ব্যবহার করে একটি নেতিবাচক বিবৃতি দিয়েছে। এতে জীবের মূল স্বরূপ বা জাত্যর্থ প্রকাশিত হয়নি। ফলে পঞ্চম নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, শ্রাবণীর উক্তিটি যৌক্তিক সংজ্ঞার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়; বরং এটি সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে অনুপপত্তি সৃষ্টি করেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার সম্পূর্ণ জাত্যর্থ (আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ) প্রকাশ করতে হয়; কোনো অতিরিক্ত বা অবান্তর গুণ উল্লেখ করা যায় না। মানুষের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি' (মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব)।

    উদ্দীপকে শ্রাবণী 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "মানুষ হয় এমন জীব যাদের দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ আছে।" এখানে শ্রাবণী মানুষের আসল বিভেদক লক্ষণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' উল্লেখ না করে মানুষের কিছু শারীরিক বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে। যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে 'দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ থাকা' মানুষের জাত্যর্থ নয়, এটি একটি অবান্তর লক্ষণ (Accidental attribute)।

    পদের অপরিহার্য গুণ বাদ দিয়ে অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করার কারণে এটি যৌক্তিক সংজ্ঞা হতে পারেনি। এর ফলে সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে এবং 'অবান্তর সংজ্ঞা অনুপপত্তি' বা লক্ষণভিত্তিক ভ্রান্তি ঘটেছে। সুতরাং, শ্রাবণীর উক্তিটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন