বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রফিকের সংসারে সচ্ছলতা না থাকলেও শান্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু লোভে পড়ে উপরি পাওনার আশায় কোম্পানির মাল পাচারে সহযোগিতার দায়ে দারোয়ানের চাকরিটা চলে যায় তার। সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। বাধ্য হয়ে রফিকের স্ত্রী কল্পনাকে পরের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করতে হয়। রাত অবধি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সে ঘরে ফেরে। তার চেহারায় মলিনতার ছাপ দেখতে পেয়ে কষ্ট পায় রফিক। তবে মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। কারণ সে জানে তার এ শাস্তি আত্মকৃত। কাউকে সে দোষ দিতে পারে না।
- ক)(1)
মাদাম লোইসেলের স্বামী কোথায় চাকরি করত?
- খ)(2)
মাদাম লোইসেলকে দেখলে এখন বয়স্কা বলে মনে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কল্পনার সাথে 'নেকলেস' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্প একই বৃক্ষের দুটি ফল- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদাম লোইসেলের স্বামী শিক্ষা পরিষদের (Ministry of Public Instruction) সাধারণ কেরানি ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হারিয়ে যাওয়া নেকলেসের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে দীর্ঘ দশ বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি ও চরম কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে মাদাম লোইসেলকে এখন বয়স্কা বলে মনে হয়।
নেকলেসটি ফেরত দেওয়ার জন্য লোইসেল দম্পতিকে ছত্রিশ হাজার ফ্রাঁ দিয়ে নতুন নেকলেস কিনতে হয়। সেই বিপুল দেনা শোধ করতে গিয়ে মাদাম লোইসেলকে পরিচারিকা ছাড়িয়ে ঘরের সব ধরনের ভারী ও নোংরা কাজ নিজ হাতে করতে হয়েছিল। সেই অমানুষিক পরিশ্রম, অযত্ন ও দারিদ্র্যের ফলে তাঁর রূপ-লাবণ্য হারিয়ে গিয়ে তিনি কর্কশ ও বয়স্কা নারীতে পরিণত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কল্পনার সাথে 'নেকলেস' গল্পের প্রধান চরিত্র মাদাম লোইসেলের (মাথিল্দা) পরিস্থিতির সাদৃশ্য রয়েছে।
'নেকলেস' গল্পে দেখা যায়, স্বামীর কোনো অন্যায় ছাড়াই কেবল একটি অসাবধানতা ও অতিরিক্ত মোহের কারণে দামি নেকলেসের ঋণ শোধ করতে মাথিল্দাকে চরম কষ্টকর জীবন বেছে নিতে হয়। সব বিলাসিতা ত্যাগ করে তাকে পরের কাজ ও গৃহস্থালির কঠিন পরিশ্রম করে দিনাতিপাত করতে হয়, যার ফলে তার সুন্দর অবয়ব নষ্ট হয়ে যায়।
উদ্দীপকের কল্পনাও স্বামীর ভুলের কারণে এক চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়। স্বামী রফিকের লোভের ফলে চাকরি চলে গেলে সংসারের চাকা সচল রাখতে বাধ্য হয়ে কল্পনাকে অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করতে হয়। রাত অবধি হাড়ভাঙা খাটুনির ফলে কল্পনার চেহারায় যেমন মলিনতা নেমে এসেছে, তেমনি মাথিল্দার রূপও বিলীন হয়েছিল দেনা শোধের কঠোর শ্রমে। এ দিক থেকে কল্পনার সঙ্গে মাথিল্দার জীবনের পরিণতি ও কঠোর পরিশ্রমের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলেই জীবনের করুণ পরিণতি নেমে আসার মূল সুরটি ফুটে উঠেছে, তবে কারণ ও মানসিকতার দিক থেকে ভিন্নতা থাকায় এরা 'একই বৃক্ষের দুটি ফল'—উক্তিটি আংশিক সত্য।
উদ্দীপকে রফিক উপরি উপার্জনের অনৈতিক লোভে পড়ে কোম্পানির মাল পাচারে জড়িয়ে নিজের চাকরি হারায় এবং পুরো পরিবারকে চরম দারিদ্র্যে ঠেলে দেয়। এখানে রফিকের পাপ ও অসততাই তাদের ধ্বংসের প্রধান কারণ, যা সে আত্মকৃত জেনে অনুতপ্ত। অন্যদিকে, 'নেকলেস' গল্পে লোইসেল দম্পতি কোনো দুর্নীতি বা অপরাধ করেনি; বরং মাথিল্দার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অহংকার ও মিথ্যা আত্মমর্যাদাবোধের কারণে ধার করা নেকলেস হারানোর পর তারা দশ বছর ধরে সৎভাবে ঋণ শোধ করে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল।
তবে উভয় প্রেক্ষাপটেই দেখা যায়, জীবনের একটি ভুল পদক্ষেপ বা অতিরিক্ত পাওয়ার মোহ শান্তিময় ও সাধারণ জীবনের সব সুখ কেড়ে নেয়। উদ্দীপকের কল্পনা এবং গল্পের মাথিল্দা—উভয়কেই স্বামীদের বা পারিবারিক সেই ভুলের চরম প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে হাড়ভাঙা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে।
অতএব, ভুলের কারণে নেমে আসা পরিণতি এবং নারীদের হাড়ভাঙা শ্রমের সাধারণ সুর এক হলেও অপরাধপ্রবণতা এবং নৈতিক সংকটের ভিন্নতার কারণে এদের হুবহু একই বলা চলে না। তবে ক্ষণিকের মোহ কীভাবে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে, সেই জীবনসত্যের রূপায়ণে এরা একই বৃক্ষের ফলের মতোই সমধর্মী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও