ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রাসূল (সাঃ) ইন্তিকালের পর সাহাবীগণ খলিফা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনায় বসলেন। এক পর্যায়ে হযরত ওমর (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) কে খলিফা নির্বাচিত করার প্রস্তাব দেন। সকল সাহাবী তার প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন। কোহিনুর বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে একটি গরু কেনেন। কিছুদিন পর গরুটি মারা যায়। সংসার চালানোর জন্য সে কিছু প্রতিবেশীর কাছ থেকেও টাকা ধার নিয়েছিলেন। এখন সে লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে পারেন না, রাতে ঘুমাতেও পারেন না।
- ক)(1)
ইজমার কয়টি রোকন আছে?
- খ)(2)
দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফা নির্বাচন কোন ধরনের ইজমা? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
কোহিনুর বেগমের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উসুলবিদদের মতে ইজমার প্রধান রোকন বা শর্ত চারটি (মতান্তরে তিনটি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'—এই কথার দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, পার্থিব জীবন হলো পরকালের পাথেয় সংগ্রহের স্থান। কৃষক যেমন জমিতে যে ধরনের বীজ বপন ও পরিচর্যা করে, ফসল কাটার সময় ঠিক তেমনই ফল লাভ করে; তেমনি মানুষ দুনিয়ার জীবনে যে নেক বা বদ আমল করবে, আখিরাতে তার প্রতিফল বা শাস্তি ভোগ করবে। তাই আখিরাতের স্থায়ী জীবনে মুক্তির জন্য দুনিয়াতেই সৎকাজ করা আবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফা নির্বাচন হলো 'ইজমায়ে ক্বওলী' (মৌখিক/স্পষ্ট ইজমা) বা সাহাবায়ে কিরামের ইজমা।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো বিষয়ের ওপর উপস্থিত সকল মুজতাহিদ বা সাহাবী স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে একমত পোষণ করলে তাকে ইজমায়ে ক্বওলী বা স্পষ্ট ইজমা বলে। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব নির্ধারণে সাহাবিদের এ ধরনের ঐকমত্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে রাসূল (সা.)-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর (রা.)-কে খলিফা নির্বাচনের প্রস্তাব করেন হযরত ওমর (রা.) এবং উপস্থিত সকল সাহাবী প্রকাশ্যে ও সর্বসম্মতিক্রমে তা সমর্থন করেন। সাহাবিগণের এই প্রকাশ্য ঐকমত্য বা সমর্থনই শরিয়তের দৃষ্টিতে ইজমায়ে ক্বওলী হিসেবে গণ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোহিনুর বেগমের অপরিকল্পিত ও সুদমুক্ত না হয়ে সমিতির ঋণ গ্রহণের প্রবণতা তাঁর ব্যক্তি জীবনে চরম অশান্তি, হতাশা ও মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
ইসলামে ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এবং সামর্থ্যের বাইরে ঋণ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে এবং তার স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়। হাদিসে ঋণকে দুশ্চিন্তা ও অপমানের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ঋণ থেকে পানাহ চাইতে শেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকে কোহিনুর বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর সমিতি থেকে এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে গরু কেনেন, যা মারা যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক লোকসানে পড়েন। এর ফলে তিনি ঋণের বোঝা পরিশোধ করতে না পেরে লোকলজ্জায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই কর্মকাণ্ড তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক অবসাদ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ পরিকল্পনা ও সামর্থ্য ছাড়া ঋণ গ্রহণ ব্যক্তির আত্মমর্যাদা ও মানসিক শান্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও