অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল দেশ বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। 'A' দেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন, দ্রুত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন, অতীতে গৃহীত পরিকল্পনার মূল্যায়ন ও অনিশ্চয়তা হ্রাসের প্রক্রিয়া নির্ধারণ, বৈদেশিক সাহায্যে, সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য ২০১৫-২০১৭ মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। 'B' দেশ সাক্ষরতার হার ১০০ ভাগে উন্নতীকরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫০০০ মেগাওয়াট নিশ্চিতকরণ, সমাজের আয় বৈষম্য দূরীকরণসহ নানাবিধ লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য ২০১৫- ২০১৭ সাল মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কী?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার প্রয়োজন- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
A দেশের পরিকল্পনাটি কোন ধরনের? তার উদ্দেশ্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
A ও B দেশের পরিকল্পনার মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচিকে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (Annual Development Programme বা ADP) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অপরিহার্য। একটি দেশের অনুৎপাদনশীল খাত নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস, বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষি ও শিল্পের সুষম বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বিত লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়। পরিকল্পিত কাঠামো ছাড়া বাজার অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা রোধ করে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' দেশের গৃহীত পরিকল্পনাটি হলো একটি স্বল্পমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদি 'ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা' (২০১৫-২০১৭)। সময়কাল বিবেচনা করলে এটি মূলত একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা।
এ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. আর্থ-সামাজিক কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা।
৩. অতীতে গৃহীত পরিকল্পনাসমূহের ফলাফল মূল্যায়ন করা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস করার রূপরেখা নির্ধারণ।
৪. বৈদেশিক ঋণের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' ও 'B' উভয় দেশের গৃহীত পরিকল্পনার সময়কাল একই (২০১৫-২০১৭) হওয়া সত্ত্বেও তাদের লক্ষ্য, প্রকৃতি ও দর্শনের দিক থেকে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
'A' দেশের পরিকল্পনাটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ও পুনর্বাসনমূলক/সংশোধনমূলক প্রকৃতির। এর উদ্দেশ্য হলো তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং পূর্বের পরিকল্পনার দুর্বলতা ও অনিশ্চয়তা মূল্যায়ন করে বৈদেশিক সাহায্যের সদ্ব্যবহার করা।
পক্ষান্তরে, 'B' দেশের পরিকল্পনাটি কৌশলগতভাবে একটি প্রেক্ষিত বা রূপকল্পভিত্তিক রূপান্তরকামী পরিকল্পনা, যা স্বল্পমেয়াদি কাঠামোর ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্য ধারণ করে। এর লক্ষ্যগুলো হলো— সাক্ষরতার হার ১০০%-এ উন্নীত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫০০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া, আয়বৈষম্য দূর করা এবং দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্যগুলো কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।
সুতরাং, সময়সীমা এক হলেও 'A' দেশের পরিকল্পনা হলো সংকট মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা-কেন্দ্রিক, যেখানে 'B' দেশের পরিকল্পনা হলো কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমুখী। তাই উভয় দেশের পরিকল্পনার মধ্যে সুস্পষ্ট মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও