গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গুচ্ছ-১: মাছ, ডিম, সিমের বিচি, ডালগুচ্ছ-২: লেবু, শাক, পটল, আম
- ক)(1)
খাদ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
পানির অপর নাম জীবন-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
গুচ্ছ-১ এর সকল প্রোটিনের পুষ্টিগুণ কি একই রকম? কিসের ভিত্তিতে এদের পুষ্টিগুণ বিচার করা হয়-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গুচ্ছ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কিন্তু কাজ করতে সক্ষম- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যা খাওয়ার পর দেহে পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে পুষ্টিসাধন, দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, তাকে খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের গঠনের ৬০-৭০ ভাগই পানি। শরীরের অভ্যন্তরে বিপাকীয় কার্য সম্পাদন, রক্ত সঞ্চালন, পুষ্টি উপাদান পরিবহন, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং দূষিত পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য পানি অপরিহার্য। পানি ছাড়া দেহের কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না এবং পর্যাপ্ত পানির অভাবে মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে। তাই পানিকে জীবনের সাথে তুলনা করে বলা হয় 'পানির অপর নাম জীবন'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গুচ্ছ-১ এর খাদ্য উপাদানগুলো হলো: মাছ, ডিম, শিমের বিচি ও ডাল। এই খাদ্যগুলোর সকল প্রোটিনের পুষ্টিগুণ এক রকম নয়। মাছ ও ডিম হলো প্রাণিজ প্রোটিন এবং শিমের বিচি ও ডাল হলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।
প্রোটিনের পুষ্টিগুণ মূলত 'অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড' (Essential Amino Acids)-এর উপস্থিতি ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করা হয়।
১. প্রথম শ্রেণির বা সম্পূর্ণ প্রোটিন: মাছ ও ডিমের মতো প্রাণিজ প্রোটিনে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে। তাই এদের পুষ্টিগুণ বা জৈবিক মান (Biological Value) অনেক বেশি।
২. দ্বিতীয় শ্রেণির বা অসম্পূর্ণ/আংশিক প্রোটিন: শিমের বিচি ও ডালের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে এক বা একাধিক অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিডের ঘাটতি থাকে (যেমন- ডালে মিথিওনিন কম থাকে)। ফলে এদের পুষ্টিগুণ প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের তুলনায় কিছুটা কম।
অতএব, অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিডের প্রাপ্যতা ও জৈবিক মূল্যের ভিত্তিতে এদের পুষ্টিগুণ বিচার করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গুচ্ছ-১ (মাছ, ডিম, শিমের বিচি, ডাল) হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য এবং গুচ্ছ-২ (লেবু, শাক, পটল, আম) হলো ভিটামিন ও খনিজ লবণসমৃদ্ধ খাদ্য। এই দুটি গুচ্ছের পুষ্টি উপাদান ও উৎস সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী হলেও দেহের সার্বিক সুস্থতা ও কার্যক্রম বজায় রাখতে তারা পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
গুচ্ছ-১ এর প্রধান কাজ হলো দেহের বৃদ্ধি সাধন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং পেশি ও কলা গঠন করা। এটি প্রধানত গঠনমূলক উপাদান সরবরাহ করে।
অন্যদিকে, গুচ্ছ-২ এর লেবু, শাক, আম ও পটল থেকে পাওয়া যায় বিভিন্ন ভিটামিন (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন এ) এবং খনিজ লবণ (যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম)। এই খাদ্যগুলো সরাসরি দেহ গঠন না করলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গাণুর কার্যক্ষমতা বজায় রাখে এবং বিপাকীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
উভয় গুচ্ছের যৌথ কার্যক্রমেই শরীর সুস্থ থাকে। প্রোটিন শোষণের জন্য এবং নতুন কোষ তৈরির জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সক্রিয় উপস্থিতি প্রয়োজন। খাদ্য তালিকায় শুধু প্রোটিন থাকলে রোগ প্রতিরোধ ও বিপাক ব্যাহত হবে, আবার কেবল ভিটামিন-খনিজ থাকলে দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ হবে না। সুতরাং, ভিন্নধর্মী হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুস্থতার কাজে গুচ্ছ দুটি পরস্পর সমন্বিতভাবে সক্ষম ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও