সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শাপলা এমন একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিল যেটি অষ্টম শতাব্দিতে নির্মিত হয়েছিল। কোনো এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে খনন কাজের মাধ্যমে নিদর্শনটির চার পাশে প্রশস্ত প্রাচীর এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরে ১৭৭টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। নিদর্শনটির মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দির অবস্থিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির যথেষ্ট সুনাম ছিল। প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন প্রমাণ করে যে, এখানে একাধিক ধর্মীয় সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটেছিল।
- ক)(1)
শীলাদেবীর ঘাট কী?
- খ)(2)
নব্য প্রস্তর যুগ ‘নবোপলীয় বিপ্লব’ নামে অভিহিত—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে উক্ত স্থানটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শীলাদেবীর ঘাট হলো বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্নানঘাট।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নব্য প্রস্তর যুগে মানুষের জীবনধারায় এক যুগান্তকারী ও মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, যার ফলে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক ভি. গর্ডন চাইল্ড এই যুগকে 'নবোপলীয় বিপ্লব' (Neolithic Revolution) বলে অভিহিত করেছেন। এ যুগে মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক অবস্থা থেকে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়, অর্থাৎ কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু করে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাস, চাকা ও মাটির পাত্রের আবিষ্কার মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে আমূল রূপান্তর ঘটায়। এই মৌলিক ও দ্রুত পরিবর্তনের কারণেই একে নবোপলীয় বিপ্লব বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 'সোমপুর মহাবিহার' বা 'পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার'-এর কথা বলা হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, অষ্টম শতকের শেষভাগে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল এই বিশাল বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে চারদিক ঘেরা প্রাচীর এবং সন্ন্যাসী ও শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য মোট ১৭৭টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে। বিহারটির ঠিক কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি ক্রুশাকার কেন্দ্রীয় মন্দির। তদুপরি, এটি প্রাচীনকালে বৌদ্ধ ধর্ম ও শাস্ত্রীয় জ্ঞান চর্চার এক প্রধান বিদ্যাপীঠ ছিল, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে জ্ঞানপিপাসুরা আগমন করত। উদ্দীপকের বর্ণনার এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহারের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার শিল্পকলা, স্থাপত্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির বিকাশে এক অনন্য ও গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রথমত, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রাচীনকালে আন্তর্জাতিক মানের একটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র বা বিদ্যাপীঠ হিসেবে কাজ করত। এখানে বৌদ্ধ দর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন শাস্ত্রীয় বিষয়ে পাঠদান করা হতো। পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের মতো বিশ্বখ্যাত মনীষী এ বিহারের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা বাংলার জ্ঞান-সাধনাকে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, স্থাপত্য ও চারুকলার ক্ষেত্রে এটি বঙ্গীয় স্থাপত্যরীতির এক অনন্য নিদর্শন। এর ক্রুশাকার কেন্দ্রীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (যেমন ইন্দোনেশিয়ার বোরোবুদুর ও মিয়ানমারের পাগান) মন্দির নির্মাণে প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বিহারটির গায়ে প্রাপ্ত অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা) তখনকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবজন্তু, পেশা এবং লোকসংস্কৃতির জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করে।
তৃতীয়ত, এটি ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের অন্যতম ক্ষেত্র। এখানে মূলত বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলেও ব্রাক্ষণ্য ও হিন্দু দেবদেবীর নানা ভাস্কর্যও পাওয়া গেছে, যা তৎকালীন সমাজে ধর্মীয় সহনশীলতা ও বহুসংস্কৃতির উন্মেষ প্রমাণ করে। সুতরাং, প্রাচীন বাংলার সভ্যতা, সমৃদ্ধ শিল্পরীতি ও সামগ্রিক সংস্কৃতির অগ্রগতিতে পাহাড়পুর মহাবিহারের অবদান চিরভাস্বর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও