‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আইনগত অধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    গণভোট বলতে কী বোঝায়?'

    (2)
  3. গ)

    (?) চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিষয়টির সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত এবং যা ভঙ্গ করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে, তাকে আইনগত অধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা সাংবিধানিক বিষয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত বা রায় গ্রহণ করার পদ্ধতিকে গণভোট (Referendum) বলা হয়। সাধারণত সংবিধান সংশোধন, ভূখণ্ডগত পরিবর্তন কিংবা জাতীয় নীতি নির্ধারণে আইনসভার পরিবর্তে সরাসরি জনসাধারণের 'হ্যাঁ' বা 'না' সূচক মতামত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গণভোটের আয়োজন করা হয়। এটি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি হলো 'আইনের উৎস'।

    আইন মূলত কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইনের প্রধান প্রধান উৎসের মধ্যে রয়েছে প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ, আইনসভা এবং জনমত।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যায় (?) চিহ্নিত বিষয়টি থেকে জনমত, আইনসভা, ধর্ম ও বিচারকের রায় নির্দেশ করা হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনের তত্ত্বে আইনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত। যেমন— প্রাচীনকালে ধর্ম ও ধর্মীয় অনুশাসন আইন তৈরির মূল ভিত্তি ছিল; বিচারকগণ প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে নিজেদের প্রজ্ঞা দিয়ে রায় দিয়ে নতুন আইনের ভিত্তি স্থাপন করেন; আধুনিক যুগে আইনসভা হলো আইন তৈরির প্রধান আনুষ্ঠানিক উৎস; এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়েই নতুন আইন প্রণীত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত (?) চিহ্নিত বিষয়টি আইনের উৎসকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'আইন'। আইনের সাথে নৈতিকতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পরিপূরক সম্পর্ক বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য মূলত একই, আর তা হলো সমাজজীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণ সাধন। যা নৈতিকতার বিরোধী, তা সাধারণত আইনেরও বিরোধী। যেমন— চুরি করা, মিথ্যা বলা বা হত্যা করা নৈতিকভাবে অন্যায় এবং আইনের দৃষ্টিতেও দণ্ডনীয় অপরাধ।

    ২. উৎসের দিক থেকে সম্পর্ক: আইনের অন্যতম প্রধান উৎস নৈতিকতা। সমাজের মানুষের ন্যায়-অন্যায় বোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র অনেক আইন প্রণয়ন করে থাকে।

    ৩. আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য: ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে—

    • পরিধি: নৈতিকতার পরিধি আইনের চেয়ে ব্যাপক। আইন মানুষের কেবল বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মানসিক অনুভূতি বা অভ্যন্তরীণ আচরণও নিয়ন্ত্রণ করে।
    • বাধ্যবাধকতা ও শাস্তি: আইন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত, তাই আইন অমান্য করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। অন্যদিকে, নৈতিকতা ব্যক্তি ও সমাজের বিবেকের বিষয়; নৈতিকতা ভঙ্গ করলে কোনো বাহ্যিক শারীরিক বা আইনি শাস্তি পেতে হয় না, কেবল সামাজিক নিন্দা বা বিবেকদংশন সহ্য করতে হয়।
    • সুনির্দিষ্টতা: আইন সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও লিখিত; কিন্তু নৈতিকতা ব্যক্তি ও সমাজের ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তা অলিখিত।

    পরিশেষে বলা যায়, আইনের পেছনে নৈতিক সমর্থন না থাকলে সে আইন কার্যকর হতে পারে না, আবার নৈতিকতা সমাজে দৃঢ় করতে আইনের সহায়তা প্রয়োজন। সুতরাং, আইন ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন