গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
শক্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
মেনু পরিকল্পনায় পরিবারের আয় বিবেচ্য বিষয়- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উল্লিখিত চিত্রে কী নির্দেশ করছে? এর চারটি অংশের কাজের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত চিত্রটির সহায়তায় দৈনিক মেনু পরিকল্পনা সহজ হয়- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, খাদ্য পরিপাক ও বিপাকের ফলে দেহে যে তাপ ও কর্মক্ষমতা উৎপন্ন হয়, তাকে শক্তি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেনু পরিকল্পনায় পরিবারের আয় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই খাদ্যদ্রব্যের তালিকা ও পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। তবে বেশি দামের খাবার মানেই যে বেশি পুষ্টিকর, তা নয়। বুদ্ধিমত্তা ও পুষ্টিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে সীমিত আয়ের মধ্যেও কম খরচের পুষ্টিকর খাদ্য (যেমন: দামি মাছ-মাংসের পরিবর্তে ডিম, ডাল, মৌসুমি শাকসবজি ও ফল) নির্বাচন করে সুষম মেনু তৈরি করা সম্ভব। তাই পরিবারের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য বাজেট তৈরি করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি 'মৌলিক খাদ্য দল' (Basic Food Groups)-এর চার দলীয় বিভাজন নির্দেশ করছে।
এর চারটি অংশের কাজের ভিন্নতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শস্য ও শস্যজাতীয় খাদ্য (চাল, আলু, গম, যব): এ দলের প্রধান কাজ হলো শরীরে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করা। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে, যা দৈনন্দিন কাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম): এ দলের প্রধান কাজ হলো দেহের বৃদ্ধি সাধন, কোষ গঠন এবং ক্ষয়পূরণ করা।
৩. দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (দুধ, আইসক্রিম, দই, ছানা): এ দলের খাদ্যগুলো প্রধানত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিনের জোগান দেয়, যা অস্থি ও দাঁতের গঠন সুদৃঢ় করে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে।
৪. শাকসবজি ও ফলমূল (পালং শাক, করলা, মিষ্টি কুমড়া, আম): এ দল ভিটামিন, খনিজ লবণ ও খাদ্য আঁশের প্রধান উৎস। এদের মূল কাজ হলো শরীরকে রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'মৌলিক খাদ্য দল'-এর সহায়তায় পরিবারের জন্য একটি পুষ্টিকর ও সুষম দৈনিক মেনু পরিকল্পনা অত্যন্ত সহজ হয়—উক্তিটি যথার্থ।
দৈনিক মেনু পরিকল্পনায় পুষ্টির সকল উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা একটি জটিল কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু মৌলিক খাদ্য দলের ধারণা থাকলে তা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। এর কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তা: মৌলিক খাদ্য দল নিশ্চিত করে যে প্রতিটি দল থেকে অন্তত একটি বা দুটি খাদ্য নির্বাচন করলেই দৈনিক চাহিদার সকল পুষ্টি উপাদান (যেমন- শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) খাদ্যতালিকায় উপস্থিত থাকবে।
২. খাদ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন: একই দলভুক্ত বিভিন্ন খাদ্যের মধ্যে অদল-বদল (Food Exchange) করে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা যায়, যার ফলে খাবারে একঘেয়েমি দূর হয়।
৩. বাজেট নিয়ন্ত্রণ: মৌলিক খাদ্য দল থেকে দামি খাবারের বিকল্প হিসেবে কম দামি অথচ সমমানের পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন করা যায়। ফলে পরিবারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী সহজেই পুষ্টিকর মেনু তৈরি করা যায়।
৪. সময় ও শ্রমের সাশ্রয়: প্রতিটি পুষ্টি উপাদান আলাদাভাবে গণনা না করে শুধু খাদ্য দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই মেনু সুষম হয়, যা মেনু তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও নির্ভুল করে।সুতরাং, পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে একটি সঠিক, বৈচিত্র্যময় ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা প্রণয়নে উদ্দীপকের খাদ্য দলভিত্তিক চিত্রটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও