‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কত সালে ৬ দফার দাবি পেশ করা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রণালী লেখ৷

    (2)
  3. গ)

    ছকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানের ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনায় বাঙালির বিজয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফার দাবি পেশ করা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তারা নিযুক্ত হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কমিশন তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে '?' চিহ্নিত স্থানের ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের 'মহান মুক্তিযুদ্ধ'।

    প্রেক্ষাপট:
    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্য শুরু করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন বেগবান হয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। এরপর ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে বর্বরোচিত গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যার প্রেক্ষিতে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এবং শুরু হয় ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়।

    বাঙালির বিজয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণ:
    ১. স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুজিবনগর সরকার গঠন: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে ১০ই এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে মুজিবনগর সরকার। এই সরকারের সফল নেতৃত্বে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় সম্ভব হয়।

    ২. সামরিক কৌশল ও সেক্টর বিন্যাস: যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে এবং বহু সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। নিয়মিত বাহিনী এবং গেরিলা যোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে ওঠে 'মুক্তিবাহিনী'। এতে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও নারীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে।

    ৩. একতাবদ্ধ লড়াই ও জনযুদ্ধ: একজন অবিসংবাদিত ও সম্মোহনী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও নেতৃত্বে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচার সত্ত্বেও মুক্তিবাহিনী অসীম সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

    ৪. মিত্রবাহিনীর সহযোগিতা ও চূড়ান্ত পর্যায়: যুদ্ধের শেষদিকে ভারত সরাসরি বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড গঠিত হয়, যা মিত্রবাহিনী হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ তীব্র করে তোলে।

    ৫. আত্মত্যাগ ও চূড়ান্ত বিজয়: ৩০ লক্ষাধিক শহিদের রক্ত এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত ও গৌরবময় বিজয় অর্জন করে এবং বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন