বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। ।গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান। কাষ্ঠ-দগ্ধ হয়ে করে পরে অনুদান । স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত, বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত। শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জল ধরে সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
- ক)(1)
'মালঞ্চ' অর্থ কী?
- খ)(2)
কবি কেন অনিষ্টকারীর জন্য দীঘল রজনী জেগে থাকেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা কর ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের 'সাধু' ' প্রতিদান' কবিতার কবির আদর্শ”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মালঞ্চ' শব্দের অর্থ ফুলের বাগান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি অনিষ্টকারী বা যে তাঁর ক্ষতিসাধন করে, তাকেও আপন করে ভালোবাসা দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করার জন্য দীঘল রজনী জেগে থাকেন।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন ক্ষমা ও পরোপকারের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। যে ব্যক্তি কবির ঘর ভেঙে দেয় বা অনিষ্ট করে, কবি তার প্রতি কোনো হিংসা বা প্রতিশোধপরায়ণতা পোষণ করেন না; বরং তার উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুভাবাপন্ন মনকে জয় করতে চান। তাই অনিষ্টকারীর মঙ্গলের ভাবনায় কবি বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার নিঃস্বার্থ পরোপকার ও আত্মত্যাগের মানসিকতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দিয়ে উদার মানবিকতা ও পরার্থপরতার জয়গান গেয়েছেন। কবি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে অনিষ্টকারীকেও ভালোবেসে আপন করে নেন এবং পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করতে চান।
উদ্দীপকের শ্লোকাংশে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান—যেমন নদী, গাছ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বাঁশি এবং মেঘের নিঃস্বার্থ পরোপকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নদী নিজে জল পান না করে অন্যকে দেয়, বৃক্ষ নিজে ফল না খেয়ে অন্যকে দান করে, কাঠ নিজে পুড়ে অন্যকে আলো বা উত্তাপ দেয়। তেমনি প্রকৃত সাধু ব্যক্তিও নিজের ধন-ঐশ্বর্য কেবল পরের কল্যাণে ব্যয় করেন। উদ্দীপকের এই আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ পরহিতৈষণার বৈশিষ্ট্যটি 'প্রতিদান' কবিতার মূল চেতনার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের 'সাধু' 'প্রতিদান' কবিতার কবির আদর্শ”- মন্তব্যটি যথার্থ ও যথার্থভাবে সত্য।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন এমন এক উচ্চমার্গীয় মানবিক আদর্শ ধারণ করেছেন, যেখানে হিংসার বদলে অহিংসা, আঘাতের বদলে ভালোবাসা এবং অনিষ্টের বদলে উপকার করাই জীবনের ব্রত। কবি বলেছেন, যে তাঁর ঘর ভেঙেছে তিনি তার ঘর বাঁধেন, যে বিষ দিয়েছে তাকে তিনি কুলভরা ফুল দান করেন। অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে পরের মঙ্গলে নিজেকে নিবেদন করাই কবির মূল চেতনা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যেমন নদী, বৃক্ষ, গাভী, কাঠ প্রভৃতি নিজের জন্য কিছুই সঞ্চয় বা ভোগ না করে নিঃস্বার্থভাবে অপরের কল্যাণে নিজেদের বিলিয়ে দেয়, তেমনি প্রকৃত 'সাধু' ব্যক্তিও তাঁর সমস্ত ঐশ্বর্য ও সাধনা কেবল পরের হিতের জন্যই ব্যয় করেন। সাধুর এই পরার্থপরতাই উদ্দীপকের মূল সুর।
'প্রতিদান' কবিতার কবিও উদ্দীপকের সাধুর মতোই নিজের স্বার্থ, অভিমান ও প্রতিশোধের চেতনা ভুলে গিয়ে অনিষ্টকারীর কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কবির আচরণ উদ্দীপকে বর্ণিত সাধুর নিঃস্বার্থ পরোপকারী জীবনাদর্শের প্রতিচ্ছবি। অতএব, উদ্দীপকের 'সাধু' যে মূল্যবোধ ও পরহিতৈষণার প্রতীক, তা নিঃসন্দেহে 'প্রতিদান' কবিতার কবির পরম জীবনদর্শন ও আদর্শ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও