রসায়ন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
X⟶ \text{X} \longrightarrow লিখা বা মুদ্রণের কাজে ব্যবহৃত হয়Y⟶ \text{Y} \longrightarrow বিন্ডিং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
- ক)(1)
রেফারেন্স তড়িৎদ্বার কী?
- খ)(2)
পানির অস্থায়ী খরতা কীভাবে দূর করা যায়?
- গ)(3)
X-এর উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
Y-তৈরির সময় নির্গত দূষকসমূহ মানব জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে তড়িৎদ্বারের সাপেক্ষে অন্য কোনো তড়িৎদ্বারের বিভব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে রেফারেন্স তড়িৎদ্বার (বা নির্দেশক তড়িৎদ্বার) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানির অস্থায়ী খরতা মূলত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বনেট লবণের দ্রবীভূত থাকার কারণে ঘটে। এটি প্রধানত দুটি উপায়ে দূর করা যায়:
১. স্ফুটন পদ্ধতি: খর পানিকে উত্তপ্ত বা ফুটালে দ্রবণীয় বাইকার্বনেট লবণগুলো ভেঙে অদ্রবণীয় কার্বনেট অধঃক্ষেপ (যেমন ) আকারে তলানি হিসেবে জমা হয়, যা ছেঁকে আলাদা করলেই পানি মৃদু হয়।
২. ক্লার্কের পদ্ধতি: খর পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে চুন বা যোগ করলে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট অধঃক্ষিপ্ত হয় এবং পানির অস্থায়ী খরতা দূর হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে X হলো কাগজ (Paper)। কাগজ উৎপাদনের মূল উপাদান হলো সেলুলোজসমৃদ্ধ মণ্ড বা পাল্প। ক্রাফট (সালফেট) পদ্ধতিতে কাগজ তৈরির প্রক্রিয়াটি নিম্নে বর্ণিত হলো:
১. কাঁচামাল প্রস্তুতি ও টুকরাকরণ (Chipping): বাঁশ বা কাঠ কেটে ছোট ছোট চিপসে রূপান্তর করা হয়।
২. ডাইজেস্টিং বা পরিপাক: চিপসগুলোকে ডাইজেস্টারে নিয়ে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড () ও সোডিয়াম সালফাইড ()-এর দ্রবণ (হোয়াইট লিকার)-এর সাথে উচ্চ চাপ ও তাপে প্রায় তাপমাত্রায় রান্না করা হয়। এতে লিগনিন দ্রবীভূত হয়ে সেলুলোজ থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং পাল্প তৈরি হয়।
৩. ধৌতকরণ ও ব্লিচিং: প্রস্তুতকৃত বাদামী পাল্পকে পানি দ্বারা ধুয়ে ব্ল্যাক লিকার পৃথক করা হয় এবং ক্লোরিন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ইত্যাদি ব্লিচিং এজেন্ট দিয়ে সাদা করা হয়।
৪. কাগজ তৈরি (বিটিং ও ফর্মিং): ব্লিচকৃত পাল্পকে বিটারে সাইজিং এজেন্ট (যেমন রেজিন, অ্যালাম) ও ফিলারসহ বিট করে ফোরড্রিনিয়ার মেশিনের তারের জালের ওপর পাতলা স্তরে ছড়ানো হয়। পরিশেষে প্রেস ও উত্তপ্ত রোলারের (ক্যালেন্ডারিং) মধ্য দিয়ে চালনা করে পানি শুকিয়ে মসৃণ কাগজ উৎপাদন করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে Y হলো সিমেন্ট, যা বহুতল ভবন বা বিল্ডিং তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান। সিমেন্ট উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নির্গত দূষকসমূহ মানবজীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ:
১. ধূলিকণা (Particulate Matter/Dust): কাঁচামাল চূর্ণন, ক্লিঙ্কার পোড়ানো ও গ্রাইন্ডিংয়ের সময় প্রচুর সূক্ষ্ম ধূলিকণা নির্গত হয়। বাতাসের মাধ্যমে এই ধূলিকণা ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সিলিকোসিস, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ সৃষ্টি করে।
২. কার্বন ডাই-অক্সাইড (): চুনাপাথরের তাপীয় বিযোজন () এবং জ্বালানি পোড়ানোর ফলে ব্যাপক মাত্রায় নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ।
৩. সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড (): উচ্চ তাপমাত্রায় কিলন পরিচালনার সময় নির্গত ও বায়ুমণ্ডলে পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে, যা মানবদেহের ত্বকের ক্ষতি করে এবং পানীয় জলের উৎসকে দূষিত করে।
৪. ভারী ধাতু: কয়লা বা জ্বালানির অপূর্ণ দহনে পারদ, ক্যাডমিয়াম, সিসা ইত্যাদি ভারী ধাতু পরিবেশে মিশে মানবদেহে স্নায়ুতন্ত্র ও বৃক্কের ক্ষতি সাধন করতে পারে।সুতরাং, সিমেন্ট তৈরির নির্গত দূষকসমূহ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও