মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নৈতিক বিকাশ কী?

    (1)
  2. খ)

    জিনকে বংশগতির বাহক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘A’ চিহ্নিত স্থানটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের C ও D চিহ্নিত স্থান দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজে প্রচলিত নিয়ম-নীতি, ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের ধারণা অনুধাবন করে আচরণ পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জন করাই হলো নৈতিক বিকাশ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিতামাতার শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরের জন্য দায়ী ক্ষুদ্রতম জৈবিক একক হলো জিন (Gene)। প্রতিটি ক্রোমোজোমে হাজার হাজার জিন থাকে, যা ডিএনএ (DNA) দ্বারা গঠিত। গর্ভধারণকালে পিতা ও মাতার কাছ থেকে আসা জিনগুলোর মাধ্যমেই সন্তানের শারীরিক গঠন, গায়ের রঙ, রক্তদল, মানসিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির ভিত্তি রচিত হয়। বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য সঞ্চালন করার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই জিনকে বংশগতির বাহক বা ধারক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহকে দেখানো হয়েছে, যেখানে একটি উপাদান পরিবেশ এবং অপরটি 'A'। সুতরাং, 'A' চিহ্নিত স্থানটি হলো 'বংশগতি' (Heredity)।

    বংশগতি হলো সেই জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পিতামাতার শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকেই বংশগতির প্রভাব শুরু হয়। মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন—উচ্চতা, শারীরিক গঠন, চোখের রঙ, ত্বকের বর্ণ ইত্যাদি সরাসরি বংশগতি দ্বারা নির্ধারিত হয়।

    এছাড়া বিভিন্ন মানসিক বৈশিষ্ট্য যেমন—বুদ্ধিমত্তা, মেজাজ এবং বিশেষ কিছু সহজাত প্রবণতার ক্ষেত্রেও বংশগতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির জন্মসূত্রে প্রাপ্ত সম্ভাবনাসমূহ বংশগতির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, যা পরবর্তীতে পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে পূর্ণাঙ্গ আচরণ রূপ ধারণ করে। অতএব, উদ্দীপকের 'A' স্থানটি আচরণের জৈবিক ভিত্তি বা বংশগতিকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পরিবেশকে দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে, যা C ও D দ্বারা চিহ্নিত। মনোবিজ্ঞান অনুসারে মানুষের বিকাশে পরিবেশ দুই ধরনের ভূমিকা রাখে: জন্মপূর্ব পরিবেশ (Prenatal Environment) এবং জন্মপরবর্তী পরিবেশ (Postnatal Environment)। অতএব, C হলো 'জন্মপূর্ব পরিবেশ' এবং D হলো 'জন্মপরবর্তী পরিবেশ'। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সময়কাল ও প্রকৃতি: গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তানের জন্ম মুহূর্ত পর্যন্ত সময়কে জন্মপূর্ব পরিবেশ বলা হয়। এটি মূলত মাতৃগর্ভের অভ্যন্তরীণ শারীরবৃত্তীয় পরিবেশ। অন্যদিকে, জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ব্যক্তির বাহ্যিক পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে জন্মপরবর্তী পরিবেশ বলা হয়।

    ২. উপাদানসমূহ: জন্মপূর্ব পরিবেশ নির্ভর করে মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বয়স, রক্তের আরএইচ (Rh) উপাদান, ঔষধ সেবন এবং গর্ভকালীন জটিলতার ওপর। অপরদিকে, জন্মপরবর্তী পরিবেশের মধ্যে রয়েছে পরিবার, সমাজ, বিদ্যালয়, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, সমবয়সী দল এবং গণমাধ্যম।

    ৩. প্রভাবের ধরন: জন্মপূর্ব পরিবেশ ভ্রূণের প্রাথমিক শারীরিক ও স্নায়বিক গঠনকে সুরক্ষিত রাখে; এ সময় কোনো অস্বাভাবিকতা শিশুর স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। অপরপক্ষে, জন্মপরবর্তী পরিবেশ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, সামাজিকীকরণ, মূল্যবোধ, ভাষা, নৈতিকতা এবং সামগ্রিক আচরণ বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে।

    পরিশেষে বলা যায়, শিশুর সুস্থ শারীরিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনে জন্মপূর্ব পরিবেশ এবং পরবর্তীতে একজন পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মানুষ হিসেবে বিকাশে জন্মপরবর্তী পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন