ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা ১: রাকিব সাহেব তাঁর সন্তানদের উপদেশ দিলেন যে, তোমরা শ্রমিকের মজুরি ইনসাফের ভিত্তিতে যথাসময়ে প্রদান করবে। বাড়ির কাজের লোকদের প্রতি সদাচরণ করবে। ঘটনা ২: জামিল সাহেব তার স্ত্রীর সাথে প্রায়শই খারাপ আচরণ করেন। তিনি মেয়েকে একজন অযোগ্য পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়ে পণ হিসেবে অনেক টাকা-পয়সা নেন এবং নিজের বিলাসিতায় উক্ত অর্থ ব্যয় করেন।
- ক)(1)
বদর যুদ্ধে কতজন মুসলমান শহিদ হয়েছিলেন?
- খ)(2)
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রাকিব সাহেবের কথার সাথে মহানবি (স)-এর চরিত্রের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জামিল সাহেবের চরিত্রে মহানবি (স)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোন কোন দিকটি অনুপস্থিত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে ১৪ জন মুসলমান শহিদ হয়েছিলেন (৬ জন মুহাজির ও ৮ জন আনসার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধিকে মহান আল্লাহ কুরআনে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বাহ্যিকভাবে সন্ধির শর্তগুলো কুরাইশদের অনুকূলে মনে হলেও, এই সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদিনা ইসলামী রাষ্ট্র ও মহানবি (স)-কে রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা দূর হয়ে শান্তির পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে আরবের বিভিন্ন গোত্রের সাথে মুসলমানদের অবাধ মেলামেশা ও ইসলামের দাওয়াত বিস্তারের সুযোগ ঘটে। সন্ধির পরবর্তী দুই বছরে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এবং পরিশেষে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয়ের পথ সুগম হয়। এই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সাফল্যের কারণেই হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাকিব সাহেবের কথার সাথে মহানবি (স)-এর চরিত্রের শ্রমের মর্যাদা দান, শ্রমিক ও অধীনস্তদের প্রতি ইনসাফ এবং সদাচরণের মহান দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) সমাজে দাস-দাসী, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য আদর্শ স্থাপন করেছিলেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও।" এছাড়াও তিনি অধীনস্ত ও গৃহকর্মীদের ভাই হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সাথে একই ধরনের খাবার গ্রহণ, তাদের পোশাক দেওয়া এবং তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা না চাপানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্দীপকের ১নং ঘটনায় দেখা যায়, রাকিব সাহেব তাঁর সন্তানদের শ্রমিকের মজুরি ইনসাফের সাথে যথাসময়ে দেওয়ার এবং বাড়ির কাজের লোকদের সাথে সদাচরণের উপদেশ দিচ্ছেন। এটি মহানবি (স)-এর শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা ও অধীনস্তদের প্রতি সদাচরণের বাণীরই প্রতিফলন। সুতরাং রাকিব সাহেবের মনোভাব মহানবি (স)-এর মানবিক ও সামাজিক ইনসাফের শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামিল সাহেবের চরিত্রে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্যতম প্রধান দিক—নারীর মর্যাদা রক্ষা, স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ, মোহরানা প্রদান, কন্যার অমতে বা অযোগ্য পাত্রে জোরপূর্বক বিয়ে না দেওয়া এবং কন্যার অধিকার রক্ষার মতো গুণাবলি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
রাসূলুল্লাহ (স) জাহেলি যুগের চরম অবহেলিত নারী জাতিকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার দান করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।" তিনি স্ত্রীদের সাথে কোমল, ভালোবাসাপূর্ণ ও সম্মানজনক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে উদ্দীপকের জামিল সাহেব তাঁর স্ত্রীর সাথে প্রায়শই খারাপ আচরণ করেন, যা নবিজির সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইসলামের পারিবারিক বিধানে বিয়ের ক্ষেত্রে বরের যোগ্যতা ও পাত্র-পাত্রীর পছন্দ-সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জামিল সাহেব এক অযোগ্য পাত্রের সাথে অর্থের লোভে মেয়েকে বিয়ে দেন। তদুপরি, ইসলামে নারীকে মোহরানা বা দেনমোহর দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা একান্তই নারীর নিজস্ব সম্পত্তি। অথচ জামিল সাহেব উল্টো মেয়ের বিয়েতে 'পণ' বা যৌতুক গ্রহণ করেছেন এবং সেই অর্থ মেয়ের কল্যাণে ব্যয় না করে নিজের বিলাসিতায় উড়িয়ে দিয়েছেন। ইসলামে যৌতুক নেওয়া বা পণ গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম ও জুলুম।
মহানবি (স) কন্যা সন্তানের লালন-পালন ও সম্মানজনক বিয়ের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে জামিল সাহেব কন্যাকে নিজের আর্থিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। অতএব, জামিল সাহেবের আচরণে নবিজির পারিবারিক আদর্শ, ইনসাফ, নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও সততার দিকগুলো সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও