‍ইতিহাস ১ম পত্র • ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    বাংলা একাডেমির পূর্ব নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টির প্রথম ধাপ ছিল- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলা একাডেমির পূর্ব নাম ছিল 'বর্ধমান হাউস' (যা মূলত বর্ধমানের মহারাজার নামানুসারে পরিচিত ছিল এবং সেখানে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল ভিত্তি ছিল ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয়তা নির্ধারণ। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, অবিভক্ত ভারতের হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায় কেবলমাত্র দুটি পৃথক ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়, বরং তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আদর্শবিশিষ্ট দুটি পৃথক জাতি। এই দ্বি-জাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'-কে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে একদল আন্দোলনকারী বিক্ষোভ মিছিল করছে এবং তাদের ব্যানারে লেখা 'রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই'। এটি ১৯৫২ সালের মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ প্রতীক।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের মুখের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে ঐতিহাসিক মিছিল বের করে, যার বাস্তব প্রতিফলন উদ্দীপকের চিত্রে ফুটে উঠেছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি আমাদের পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনকেই তুলে ধরেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চাইলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেন।

    এই রক্তদানের মধ্য দিয়েই বাঙালির মনে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বদলে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর চেতনা জাগ্রত হয়। ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতিই ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

    অতএব, নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রথম ও কার্যকর পদক্ষেপ ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন