ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ইলখানি সুলতান গাজান খান গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ডাক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন। তিনি সরকারি পত্রাবলি প্রস্তুত ও প্রেরণের জন্য একটি পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করেছিলেন। মূলত সরকারি পত্রাদির জাল প্রতিরোধ করার জন্যই তার ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
- ক)(1)
কোন খলিফা সর্বপ্রথম মুসলিম নৌ-বাহিনী গঠন করেন?
- খ)(2)
দিওয়ান-আল-খারাজ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কোন উমাইয়া খলিফা গাজান খানের ন্যায় ডাক বিভাগ গঠন করেছিলেন? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে আমির মুয়াবিয়ার রাষ্ট্রীয় পত্রাদি সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে সিরিয়ার গভর্নর আমির মুয়াবিয়া (রা) সর্বপ্রথম মুসলিম নৌ-বাহিনী গঠন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দেওয়ান-আল-খারাজ' হলো মুসলিম খিলাফতের কেন্দ্রীয় ভূমি রাজস্ব বিভাগ। এ দপ্তরের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের বিজিত অঞ্চলের কৃষিজমির জরিপ, উৎপাদন ও মালিকানার ভিত্তিতে ধার্যকৃত 'খারাজ' বা ভূমিকর নির্ধারণ, আদায় ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আমির মুয়াবিয়া (রা) সুলতান গাজান খানের মতো সুসংগঠিত ডাক বিভাগ বা 'দেওয়ান-আল-বারিদ' গঠন করেছিলেন।
আমির মুয়াবিয়া (রা) বিশাল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘোড়াবাহী ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। প্রতিটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ডাকচৌকি বা রিলে স্টেশন স্থাপন করা হতো, যেখানে চটপটে ঘোড়া ও বার্তাবাহক প্রস্তুত থাকত। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত জরুরি সরকারি বার্তা আদান-প্রদান এবং একই সাথে সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যকর করা হতো।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুলতান গাজান খান যেভাবে সরকারি পত্র প্রস্তুত, প্রেরণ ও জালিয়াতি রোধের জন্য দপ্তর করেছিলেন, খলিফা আমির মুয়াবিয়া (রা)-ও ঠিক একইভাবে 'দেওয়ান-আল-খাতাম' (রেজিস্ট্রি বা মোহরাঙ্কন দপ্তর) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
আমির মুয়াবিয়ার খিলাফতের আগে খলিফার জারি করা আদেশের একটি সাধারণ চিঠি প্রাপকের কাছে পাঠানো হতো। একবার জনৈক ব্যক্তি গভর্নরের কাছে খলিফার প্রেরিত আর্থিক বরাদ্দের চিঠিতে অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে জালিয়াতি করে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়। বিষয়টি অবগত হয়ে আমির মুয়াবিয়া অত্যন্ত সতর্কতামূলক প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে 'দেওয়ান-আল-খাতাম' প্রতিষ্ঠা করেন।
এই ব্যবস্থার অধীনে খলিফার স্বাক্ষরিত প্রতিটি নির্দেশ বা চিঠির একটি অনুলিপি কেন্দ্রীয় দপ্তরে সংরক্ষণ করা হতো এবং মূল পত্রটিকে মোম ও দাপ্তরিক সিলমোহর দ্বারা আবদ্ধ করে প্রাপকের কাছে পাঠানো হতো। প্রাপক মোহর খোলার আগে নিশ্চিত হতে পারত পত্রটি অবিকৃত রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজান খানের পত্র জালিয়াতি রোধের চেতনার সাথে আমির মুয়াবিয়ার এই দূরদর্শী ও সুশৃঙ্খল দাপ্তরিক ব্যবস্থার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও