ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি রাজ্যে ভিনদেশি বণিকরা বাণিজ্য করতে আসে। সেই রাজ্যের রাজার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বণিকদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। রাজার সেনাপতি চক্রান্ত করে বিদেশি বণিকদের সাথে যোগ দেয়। ফলে যুদ্ধে রাজা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ক)(1)
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
'অন্ধকূপ হত্যা' বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৬০০ সালে ব্রিটিশ/ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অন্ধকূপ হত্যা' হলো ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি বহুল বিতর্কিত ঘটনা। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮ ফুট দীর্ঘ এবং ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি চওড়া একটি ক্ষুদ্র কক্ষে বন্দি করে রাখেন। তীব্র গরমে ও শ্বাসকষ্টে তাদের মধ্যে ১২৩ জন মারা যায় বলে দাবি করা হয়। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের গবেষণায় এই ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক রটনা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভিনদেশি বণিকদের সাথে রাজ্যের রাজার দ্বন্দ্ব হয় এবং একপর্যায়ে যুদ্ধ শুরু হলে সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতায় রাজার শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
পাঠ্যবই অনুযায়ী, বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নানা অন্যায় কর্মকাণ্ড ও ঔদ্ধত্যের কারণে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে তাদের বিরোধ বাধে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ফলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং নবাবের এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা ঘটে। উদ্দীপকের ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরিণতি হুবহু পলাশীর যুদ্ধের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশীর যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও যুগান্তকারী, যা বাংলার স্বাধীনতা হরণ করে ইংরেজদের দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করেছিল।
পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলে বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রায় দুই শত বছরের জন্য ভূলুণ্ঠিত হয়। যুদ্ধের পর ইংরেজরা মীর জাফরকে কাঠের পুতুলের মতো নবাব বানালেও প্রকৃত ক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলায় কোম্পানির অর্থনৈতিক শোষণ, লুণ্ঠন ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা যে বিপুল সম্পদ অধিকার করে, তা পরবর্তীতে তাদের পুরো ভারতবর্ষ জয়ে সহায়ক হয়েছিল। বাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি, কুটিরশিল্প ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়ে। নবাবের পতনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়, যার ফলে শুরু হয় চরম শোষণ, দারিদ্র্য ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কালো অধ্যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও