গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আলেয়া বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরই নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলো আলেয়ার পরিবার। ডাক্তার নবজাতকের ভূমিষ্ট হওয়ার পরই নাড়িরজ্জু কেটে নবজাতকের সুস্থতা পরিমাপ করলেন এবং ডাক্তার আলেয়ার পরিবারকে বললেন, প্রসবের পরবর্তী সময়ে আরো বেশি যত্নশীল হতে হয়।
- ক)(1)
নবজাত কী?
- খ)(2)
শাল দুধকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয় তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
‘নবজাতকের সুস্থতার পরিমাপ' বইয়ের আলোকে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ডাক্তারের শেষ লাইনটি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে জীবনের প্রথম দুই থেকে চার সপ্তাহ বা এক মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্তন থেকে প্রথম যে ঘন, আঠালো ও হালকা হলুদ রঙের দুধ নিঃসৃত হয়, তাকে শালদুধ বলে। শালদুধে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধক উপাদান (অ্যান্টিবডি, বিশেষ করে IgA), ভিটামিন ‘এ’ ও প্রোটিন থাকে। এটি নবজাতকের পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করে এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও অ্যালার্জির হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করে প্রাকৃতিক ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে। এজন্য শালদুধকে শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক টিকা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবই অনুযায়ী ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই নবজাতকের সুস্থতা পরিমাপের জন্য ‘অ্যাপগার স্কেল’ (Apgar Scale) ব্যবহার করা হয়। জন্মগ্রহণের ১ মিনিট ও ৫ মিনিটের মধ্যে এই পরিমাপ নেওয়া হয়।
অ্যাপগার স্কেলের পাঁচটি মূল মানদণ্ড হলো:
১. হৃদস্পন্দনের গতি (Heart Rate): প্রতি মিনিটে ১০০ বা তার বেশি থাকা স্বাভাবিক।
২. শ্বাস-প্রশ্বাস (Respiratory Effort): শিশুর কান্নার তীব্রতা ও স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৩. পেশির দৃঢ়তা বা নমনীয়তা (Muscle Tone): হাত-পায়ের নড়াচড়া ও পেশির শক্তি দেখা হয়।
৪. উদ্দীপনায় প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবর্ত প্রতিক্রিয়া (Reflex Irritability): নাড়াচাড়া বা স্পর্শে শিশুর প্রতিক্রিয়া।
৫. গায়ের রঙ (Skin Color): শরীরের রঙ স্বাভাবিক গোলাপি কি না তা যাচাই করা হয়।প্রতিটি ক্ষেত্রে ০, ১ বা ২ নম্বর দিয়ে মোট ১০ নম্বরের মধ্যে স্কোর নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ৭ বা তার বেশি হলে নবজাতককে সুস্থ বিবেচনা করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ডাক্তারের বক্তব্যটি ছিল—"প্রসবের পরবর্তী সময়ে আরো বেশি যত্নশীল হতে হয়", যা প্রসবোত্তর মা ও নবজাতকের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর জন্য নিম্নোক্ত যত্ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন:
১. নবজাতকের যত্ন: জন্মগ্রহণের সাথে সাথে শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উষ্ণ রাখতে হবে যাতে হাইপোথার্মিয়া না হয়। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শালদুধ দিতে হবে এবং প্রথম ছয় মাস কেবল বুকের দুধ (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) ছাড়া পানিও দেওয়া যাবে না। এছাড়া নাড়ির পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রসূতি মায়ের যত্ন: প্রসবের পর মা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল থাকেন। তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পানি ও প্রোটিন-ক্যালসিয়ামযুক্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রসূতি মায়ের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
৩. জটিলতা পর্যবেক্ষণ: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, উচ্চ জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা খিঁচুনির মতো প্রসব-পরবর্তী বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।সুতরাং, মা ও নবজাতকের সুস্থতা ও জীবনরক্ষার জন্য প্রসবোত্তর যত্ন অত্যন্ত জরুরি, যা ডাক্তারের বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও