গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দীপ্তি ও কনা একই সাথে সন্তানসম্ভবা হয়। দীপ্তির শাশুড়ি কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তিনি দীপ্তিকে কম পরিমাণে খেতে দেন এবং ডাক্তারের কাছে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। দীপ্তির সন্তান জন্মের সময় খিচুনি ও তীব্র মাথা ব্যথা ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়। অন্যদিকে কনা এই সময় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খায় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়।
- ক)(1)
নিরাপদ মাতৃত্ব কাকে বলে?
- খ)(2)
“শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোকৃষ্ট।”-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দীপ্তির জটিলতা কোন ধরনের? এটি রোধের উপায় ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দীপ্তি ও কনার গর্ভকালীন যত্নের যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতকের সুস্থতা ও জীবনঝুঁকিমুক্ত সুরক্ষামূলক সার্বিক সেবাকে নিরাপদ মাতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়ের দুধে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে। এতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি (যেমন- কোলোস্ট্রাম বা শালদুধ), যা শিশুকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। এটি সহজে হজমযোগ্য, জীবাণুমুক্ত এবং সর্বদা সঠিক তাপমাত্রায় পাওয়া যায়। ফলে শিশুর জন্য মায়ের দুধকে সর্বোকৃষ্ট খাদ্য বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দীপ্তির যে জটিলতা দেখা গেছে (খিচুনি, তীব্র মাথাব্যথা ইত্যাদি), তা হলো গর্ভকালীন মারাত্মক জটিলতা 'এক্লাম্পসিয়া' (Eclampsia), যা প্রি-এক্লাম্পসিয়ার পরবর্তী জটিল রূপ।
এটি রোধের উপায়সমূহ:
১. নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা (ANC): গর্ভকালে অন্তত চারবার প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ, ওজন ও প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে হবে।
২. সুষম পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ: গর্ভবতীকে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে এবং খাবারের পরিমাণ কমানো যাবে না।
৩. কুসংস্কার বর্জন: গর্ভকাল সম্পর্কে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস পরিহার করে সঠিক স্বাস্থ্যশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ ও পূর্ণ বিশ্রামে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দীপ্তি ও কনার গর্ভকালীন যত্নের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কনার গৃহীত যত্ন ছিল যথার্থ ও বৈজ্ঞানিক, অপরদিকে দীপ্তির যত্ন ছিল সম্পূর্ণ অবহেলা ও কুসংস্কারে ভরা।
গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্যালরি ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজন হয়, কারণ গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি মায়ের পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভকালীন নানা জটিলতা (যেমন- রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, এক্লাম্পসিয়া) সময়মতো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উদ্দীপকে দীপ্তির শাশুড়ি কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ায় দীপ্তিকে কম খাবার দিয়েছেন এবং ডাক্তার দেখাতে দেননি। এর ফলে তার অপুষ্টি হয়েছে এবং প্রসবকালে খিঁচুনি ও তীব্র মাথাব্যথার মতো বিপজ্জনক জটিলতার শিকার হতে হয়েছে, যা মা ও শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারত। সুতরাং দীপ্তির গর্ভকালীন যত্ন ছিল সম্পূর্ণ অযথার্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে কনা সঠিক পুষ্টিকর খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করেছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছে, যা গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ প্রসবের জন্য একান্ত আবশ্যক। ফলে কনার গর্ভকালীন যত্ন ছিল বিজ্ঞানসম্মত, নিরাপদ এবং যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও