ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের রাস্তা কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি সেনারা সহজে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তা কাটা থাকায় পাক আর্মি গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে গ্রামে প্রবেশ করার সাহস পায়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের এ রণকৌশলের কারণে রাশেদদের গ্রাম ছিল নিরাপদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটি।
- ক)(1)
হিজরত অর্থ কী?
- খ)(2)
হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) কোন যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন? বর্ণনা করো।'
- ঘ)(4)
মহানবি (স)-এর উত্ত রণকৌশলটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হিজরত' শব্দের আভিধানিক অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর, ত্যাগ করা বা প্রস্থান করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো উদ্দেশ্য ও চেতনাগত। সাধারণভাবে জীবিকা, শিক্ষা বা ব্যক্তিগত কোনো প্রয়োজনে এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গমন করাকে দেশত্যাগ বলা হয়। কিন্তু ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে গমন করাকে হিজরত বলা হয়। হিজরতে ধর্মীয় ও আদর্শিক ত্যাগের বিষয়টি প্রধান, যা সাধারণ দেশত্যাগে থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রণকৌশলটির অনুরূপ রণকৌশল মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) খন্দক বা পরিখা যুদ্ধে (৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে) প্রয়োগ করেছিলেন।
মদিনার প্রতিরক্ষার স্বার্থে সম্মিলিত কুরাইশ ও তাদের মিত্রবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য হযরত সালমান ফারসি (রা)-এর পরামর্শে মহানবি (স) মদিনার উন্মুক্ত উত্তর সীমান্তে গভীর পরিখা (খন্দক) খননের সিদ্ধান্ত নেন। উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে শত্রুর প্রবেশ ঠেকাতে রাস্তা কেটে দিয়েছিল, তেমনি রাসুলুল্লাহ (স) সাহাবিদের নিয়ে মদিনার প্রবেশমুখে পরিখা খনন করেন। এর ফলে শত্রুবাহিনীর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী মদিনায় সরাসরি প্রবেশ করতে বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স)-এর পরিখা খননের রণকৌশলটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রথমত, আরবে এটি ছিল সম্পূর্ণ অভিনব একটি আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধকৌশল। আরবরা মুখোমুখি যুদ্ধেই অভ্যস্ত ছিল, ফলে পরিখার মতো প্রতিবন্ধক তাদের সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ও হতভম্ব করে দেয়।
দ্বিতীয়ত, বিশাল যৌথ কুরাইশ-মিত্রবাহিনীর তুলনায় মুসলিমদের সৈন্যসংখ্যা অনেক কম ছিল। এই কৌশলের ফলে মুসলিমদের রক্তক্ষয় রোধ হয় এবং কোনো বড় ধরনের মুখোমুখি লড়াই ছাড়াই দীর্ঘ অবরোধের মুখে খাদ্যসংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় ক্লান্ত হয়ে শত্রুশিবিরে ভাঙন ধরে এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে, এই রণকৌশলের সাফল্য কুরাইশদের মদিনা ধ্বংসের শেষ আশাকে চূর্ণ করে দেয় এবং আরবে ইসলামের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান চূড়ান্তভাবে সুসংহত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও