বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে চলাই তারুণ্যের ধর্ম। এ বয়সের ধর্মই হলো মাথা নত না করার শপথে উদ্দীপ্ত হওয়া। জড়তা তাদেরকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। অফুরান প্রাণচঞ্চলতা ও দুঃসাহসিকতা তরুণদের পথচলার শক্তি যোগায়।

  1. ক)

    সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মারা যান?

    (1)
  2. খ)

    "এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার বিষয়বস্তুগত সাদৃশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত যৌবনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশের স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ২১ বছর বয়সে (কিংবা ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের পরিচিতি অনুযায়ী ২০ বছর ৮ মাস বয়সে) মারা যান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"—চরণটির মাধ্যমে কবি দেশের সর্বপ্রকার জড়তা, ভীরুতা ও অন্যায় দূর করার জন্য তারুণ্যের অপরাজেয় শক্তি ও ইতিবাচক উদ্দীপনার আবাহন জানিয়েছেন।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যৌবনের দুঃসাহস, আত্মত্যাগ এবং যেকোনো অন্যায় ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অদম্য স্পৃহার কথা তুলে ধরেছেন। জাতীয় জীবনে যখনই স্থবিরতা, হতাশা, পরাধীনতা কিংবা অবিচার জেঁকে বসে, তখনই তরুণ সমাজের জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। তরুণদের সতেজ প্রাণশক্তি, নির্ভীক চিত্ত এবং আত্মত্যাগের মনোভাবই দেশকে সংকটমুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই কবি কায়মনোবাক্যে কামনা করেছেন যেন আঠারো বছর বয়সের সেই অজেয় ও ইতিবাচক তারুণ্যশক্তি সমগ্র জাতির বুকে নেমে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার বিষয়বস্তুগত সাদৃশ্য রয়েছে তারুণ্যের আত্মত্যাগ, নির্ভীকতা, অফুরান প্রাণচঞ্চলতা ও মাথা নত না করার মানসিকতায়।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তুলে ধরেছেন যে, যৌবনের ধর্মই হলো যেকোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করা। এ বয়সে মানুষ কোনো বাধা-বিপত্তি বা পরাজয়কে মেনে নেয় না; প্রাণ বাজি রেখে বা আত্মাহুতি দিয়ে হলেও নতুন পথ রচনা করে। এ বয়সের শক্তি সমস্ত ভীরুতা ও জড়তাকে জয় করে প্রগতির পথে এগিয়ে যায়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, মাথা নত না করার রক্তশপথে বলীয়ান থাকা এবং কোনো জড়তায় আচ্ছন্ন না হয়ে অফুরান প্রাণচঞ্চলতা ও দুঃসাহসিকতায় এগিয়ে চলাই তারুণ্যের মূল শক্তি। অতএব, যৌবনের তেজস্বিতা, আপসহীনতা ও অমিত সম্ভাবনার যে বন্দনা কবিতায় করা হয়েছে, উদ্দীপকেও তারই হুবহু প্রতিফলন ঘটেছে। ফলে উভয় অংশের মূল বিষয়বস্তু এক ও অভিন্ন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত যৌবনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশের স্বরূপটি নির্ভীকতা, আত্মত্যাগ, বাধা ভাঙার দুর্বার আবেগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক ও গতিশীল রূপটি অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে উন্মোচিত হয়েছে। যৌবন মানেই নিয়ম-শৃঙ্খলের অন্ধ অচলায়তন ভেঙে নতুন দিনের সূচনা করা। এ বয়সে কানে আসে নানা সতর্কবার্তা, কিন্তু তরুণরা কোনো ভীতিকে তোয়াক্কা করে না। তারা অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত করে না; বরং নিজের রক্ত ঢেলে দিয়ে যেকোনো সত্য ও ন্যায়ের পথ উন্মুক্ত করতে পারে। কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে যৌবনের সীমাহীন সাহসিকতা, যেখানে শত দুর্যোগ ও জরাকে পদদলিত করে প্রাণের স্পন্দন জয়ী হয়।

    উদ্দীপকে যৌবনের যে স্বতঃস্ফূর্ত রূপ নির্দেশ করা হয়েছে, তা হলো জড়তাকে অতিক্রম করা, মাথা নত না করা এবং রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এই উদ্দীপনা কেবল বাহ্যিক কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়, বরং তারুণ্যের স্বভাবজাত বা সহজাত ধর্ম। তরুণদের মধ্যে যে অফুরন্ত প্রাণচাঞ্চল্য ও দুঃসাহসিক শক্তি রয়েছে, তা মানবকল্যাণ ও মুক্তিসংগ্রামে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

    পরিশেষে বলা যায়, কবিতার প্রতিটি চরণে তরুণদের যে অকুতোভয় ও আত্মবিসর্জনের স্পৃহা বর্ণিত হয়েছে, উদ্দীপকের বক্তব্য তারই নিবিড় সারসংক্ষেপ। উদ্দীপকের আলোকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু রাখা এবং প্রাণশক্তির অনির্বাণ শিখায় পথচলাই হলো কবিতায় প্রকাশিত যৌবনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশের মূল স্বরূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন