অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
’A' দেশে ২০১৮ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১৬০ । ২০২০ সালে ঐ দেশের ভোক্তার মূল্যসূচক বেড়ে ১৮০ হয়। এর ফলে উৎপাদনকারীরা লাভবান হলেও গরিব ও সীমিত আয়ের লোক ভোগান্তির শিকার হয়।
- ক)(1)
মুদ্রা সংকোচন কী?
- খ)(2)
"মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'A' দেশের ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উৎপাদনকারী এবং গরিব ও সীমিত, আয়ের লোকের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক জোগান বেশি হওয়ার কারণে দ্রব্যমূল্যের স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রা সংকোচন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে দ্রব্যমূল্যের সাধারণ স্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
অর্থের মূল্য এবং দামস্তরের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান (Vm = 1/P)। দামস্তর বেড়ে গেলে পূর্বের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করা যায়, অর্থাৎ অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াকেই অর্থের মূল্য হ্রাস পাওয়া বলা হয়। তাই মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী,
ভিত্তি বছর ২০১৮-এর ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI_0) = ১৬০
চলতি বছর ২০২০-এর ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI_1) = ১৮০মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্র:
মুদ্রাস্ফীতির হার = [(CPI_1 - CPI_0) / CPI_0] × ১০০%মান বসিয়ে পাই:
মুদ্রাস্ফীতির হার = [(১৮০ - ১৬০) / ১৬০] × ১০০%
= (২০ / ১৬০) × ১০০%
= ০.১২৫ × ১০০%
= ১২.৫%অতএব, 'A' দেশে ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ১২.৫%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজে আয়ের পুনর্বণ্টন ঘটে, যার ফলে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়। উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদনকারী লাভবান হওয়া এবং গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বাস্তবসম্মত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উৎপাদনকারীর ওপর প্রভাব:
মুদ্রাস্ফীতির সময়ে দ্রব্যসামগ্রীর দাম ক্রমাগত বাড়ে। তবে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও শ্রমিকের মজুরি যে হারে বাড়ে, উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য সাধারণত তার চেয়ে দ্রুত ও বেশি হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বিক্রয়লব্ধ আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনকারীদের নিট মুনাফার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে উদ্দীপকের 'A' দেশের উৎপাদনকারীরা লাভবান হয়েছে।২. গরিব ও সীমিত আয়ের লোকের ওপর প্রভাব:
নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের লোক (যেমন- চাকরিজীবী, দিনমজুর, পেনশনার ও গরিব মানুষ) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক আয় পেয়ে থাকেন। মুদ্রাস্ফীতির সময়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলেও তাদের আয় তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ে না। ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে তাদের প্রকৃত আয় (Real Income) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এতে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাদের ভোগ ও জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যটি যথার্থ—মুদ্রাস্ফীতি সমাজে উৎপাদনকারী শ্রেণির জন্য বাড়তি মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের লাভবান করলেও গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষদের চরম ভোগান্তি ও আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও