বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের কিছু মানুষ বিরোধিতা করেছে। অনেকে স্বার্থসিদ্ধির জন্যে গোপনে পাক সেনাদের স্নাথে হাত মিলিয়ে বাঙালি নিধনে তৎপর হয়ে উঠেছে। তেমনি দেশবিরোধী একজন ব্যক্তি আবুল মিয়া। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে আঁতাত করে সে তার নিজের এলাকার অনেক ক্ষতিসাধন করেছে।
- ক)(1)
পলাশীর যুদ্ধে নবার সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
- খ)(2)
"আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে"—উক্তিটির মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আবুল মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে"-এ প্রসঙ্গে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় পঞ্চাশ হাজার (পদাতিক ও অশ্বারোহী মিলিয়ে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে"—উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিজের অতিরিক্ত সরলতা, দুর্বলতা এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করার আত্মগ্লানি প্রকাশ করেছেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বারবার করা ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে জেনেও কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল কোরআন স্পর্শ করিয়ে শপথ পড়িয়ে ক্ষমা করে দেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বদলে আবেগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করায় নবাব শেষ পর্যন্ত সর্বনাশের মুখোমুখি হন। নিজের এই ক্ষমাসুন্দর মানসিকতা ও দুর্বলতাই যে দেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা উপলব্ধি করে নবাব নিদারুণ অনুশোচনায় নিজের বিরুদ্ধে এই নালিশ ব্যক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আবুল মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মীর জাফরের (অথবা সামগ্রিকভাবে মীর জাফর চক্রের) প্রতিনিধিত্ব করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তিনি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধি এবং নবাব হওয়ার লোভে গোপনে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করেন। পলাশীর যুদ্ধে তিনি নিশ্চেষ্ট থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন এবং দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে সাহায্য করেন।
উদ্দীপকের আবুল মিয়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে বাঙালি নিধনে অংশ নেয় এবং নিজ এলাকার চরম ক্ষতিসাধন করে। তার এই দেশদ্রোহিতা ও স্বার্থান্ধতা নাটকের মীর জাফরের কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য স্বদেশ ও স্বজাতির সাথে প্রতারণা করার যে রূপ আবুল মিয়ার মধ্যে দেখা যায়, তা নাটকের মীর জাফরের দেশবিরোধী চরিত্রের সমান্তরাল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে"—মতামতটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কেবল দেশদ্রোহিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার দিকই চিত্রিত হয়নি, বরং এতে যুগপৎভাবে দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, কূটনৈতিক চাল এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বহুমুখী লড়াই প্রতিফলিত হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ, মীর মদন ও মোহনলালের মতো বীর সেনানীদের দেশের জন্য নিঃশর্ত আত্মাহুতি এবং ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নাটকের একটি বিরাট ও গৌরবোজ্জ্বল অংশ। পক্ষান্তরে, মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, জগৎশেঠদের চক্রান্ত ছিল নাটকের বিরোধী দিক।
উদ্দীপকে কেবল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আবুল মিয়ার দেশবিরোধী চক্রান্ত ও পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে তার গোপন আঁতাতের নেতিবাচক দিকটিই তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের যে বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার অংশটি রয়েছে, উদ্দীপক কেবল সেই একটিমাত্র দিককেই ধারণ করেছে। কিন্তু নাটকের মূল নায়ক সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা রক্ষার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার গৌরবময় দিকটি উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
সুতরাং সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, একটি ঐতিহাসিক নাটকের বহুস্তরীয় ভাবসত্যের মধ্যে উদ্দীপকটি কেবল মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটির সাথে মিলে যায়, কিন্তু সামগ্রিক নাটকীয় ভাবকে তুলে ধরে না। তাই উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক রূপই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও