সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তিহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টি নিয়ে পড়ালেখা করে তা মানুষের একত্রে বসবাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি। মূল্যবোধ নিরপেক্ষভাবে যৌথ জীবন, কার্যাবলি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে। বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সচেতন হওয়া যায়।

  1. ক)

    কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    'সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান' - বুঝিয়ে লেখো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত তিহামের পঠিত বিষয়টির প্রায়োগিক দিক বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজেও উত্ত বিষয়টি অধ্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকাইভার ও চার্লস পেজ-এর মতে, সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান।

    মানুষ সামাজিক জীব এবং সমাজে টিকে থাকার জন্য একে অপরের সাথে নানা ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক (যেমন- পরিবার, আত্মীয়তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক) গড়ে তোলে। এই সমস্ত সম্পর্কের ধরন, পরিবর্তন, নিয়মকানুন এবং প্রভাব নিয়েই সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা ও গবেষণা করে। তাই সমাজবিজ্ঞানকে মূলত সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত তিহামের পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী।

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং কুসংস্কারের মতো বহুমুখী সমস্যা বিদ্যমান। এই সমস্যাগুলোর মূল কারণ এবং সমাজকাঠামোয় এদের প্রভাব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিকসমূহ হলো:
    ১. সামাজিক সমস্যার কারণ নির্ণয় এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ও নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।
    ২. গ্রামীণ ও নগর জীবনের পরিবর্তন, শ্রেণি কাঠামো এবং সামাজিক গতিশীলতা বিশ্লেষণ করা।
    ৩. সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা এবং নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সামাজিক তথ্য ও গবেষণা সরবরাহ করা।

    অতএব, বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজেও সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে মানুষের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা ও পারস্পরিক যোগাযোগে যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তেমনই কিছু নতুন সামাজিক সংকটও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ ও সমাজকাঠামোর যে পরিবর্তন হয়, তা সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করে।

    আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও সম্পর্ক অনুধাবন: তথ্যপ্রযুক্তি মানুষকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করলেও বাস্তবে একা ও সমাজবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক সম্পর্কের সংকট বুঝতে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা দেয়।
    ২. সাংস্কৃতিক বিপর্যয় বা অসামঞ্জস্য: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির যে ব্যবধান (Cultural Lag) তৈরি হয়, তা সমাজবিজ্ঞান আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে সাহায্য করে।
    ৩. সাইবার অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি: প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সাইবার ক্রাইম, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রতিরোধে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিকল্প নেই।
    ৪. প্রযুক্তি ও সমাজের সমন্বয়: প্রযুক্তি কীভাবে কর্মসংস্থান, পরিবার ও সামাজিক স্তরবিন্যাসকে প্রভাবিত করছে তা জেনে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সমাজবিজ্ঞান সাহায্য করে।

    অতএব, প্রযুক্তির সঠিক ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সুষম ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য আধুনিক যুগেও সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন