ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব শাহজাহান খান কলাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি অত্যন্ত দয়ালু, সদাশয় ও জনদরদী ব্যক্তি এবং চারিত্রিক দিক দিয়ে ছিলেন সরল, অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী ও কর্তব্যপরায়ণ। তিনি ইসলামি আদর্শ ও মূল্যবোধকে হৃদয়ে ধারণ করতেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি গরিব জনগণের বিভিন্ন খাজনা মওকুফ করেন এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার করে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সাধন করেন। ভিন্ন মতাবলম্বীদের শাসনকার্যে নিয়োগ করে তিনি এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে কারবালার বিয়োগান্ত-ঘটনা ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিখ্যাত ছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন উমাইয়া খলিফার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত খলিফার শাসননীতি ছিল জনকল্যাণমুখী'- বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর (৬১ হিজরির ১০ই মহররম) কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাঁর কঠোর শাসননীতি, দক্ষ প্রশাসনিক দক্ষতা এবং একই সাথে চরম নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত ও কুখ্যাত ছিলেন। উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের সময়ে তিনি ইরাক ও পূর্ব প্রদেশসমূহের গভর্নর নিযুক্ত হয়ে কঠোর হস্তে বিদ্রোহ দমন করেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এছাড়া তিনি আরবি লিপিতে নুকতা ও হরকত সংযোজন এবং সিন্ধু অভিযানে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে প্রেরণের জন্য স্মরণীয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর বিন আব্দুল আজিজ (উমর-২)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উমর বিন আব্দুল আজিজ ছিলেন উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক, অনাড়ম্বর, ন্যায়পরায়ণ ও প্রজাদরদী শাসক ছিলেন। তাঁর চরিত্র ও শাসনব্যবস্থায় খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনপদ্ধতির প্রতিফলন ঘটেছিল বলে তাঁকে 'পঞ্চম ধার্মিক খলিফা'ও বলা হয়ে থাকে। তিনি অবৈধ রাজকীয় ব্যয় হ্রাস করেন, প্রজাদের কর মওকুফ করেন এবং অমুসলিম ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের (যেমন খারিজি ও শিয়া) প্রতি সহানুভূতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত নীতি গ্রহণ করেন।

    উদ্দীপকের জনাব শাহজাহান খানের সরলতা, ধর্মানুরাগ, ইসলামি মূল্যবোধ লালন, কর ব্যবস্থার সংস্কার ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি মূলত উমাইয়া খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের চারিত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের শাসননীতি সম্পূর্ণভাবে জনকল্যাণমুখী ছিল—উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।

    তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজকীয় বিলাসিতা ত্যাগ করেন এবং খিলাফতের বায়তুল মালকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। তিনি উমাইয়া রাজপরিবারের সদস্যদের দ্বারা দখলকৃত অবৈধ সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেন কিংবা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেন।

    তাঁর জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে অন্যতম ছিল কর ব্যবস্থার সংস্কার। তিনি নব্য মুসলিমদের ওপর থেকে অন্যায়ভাবে আরোপিত 'জিজিয়া' কর বাতিল করেন এবং ভূমির কর (খারাজ) পুনর্নির্ধারণ করে সাধারণ কৃষকদের মুক্তি দেন। গরিব ও দুস্থদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, যার ফলে তাঁর সময়ে যাকাত নেওয়ার মতো অভাবী লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    এছাড়া তিনি সাম্রাজ্যজুড়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ, সরাইখানা ও হাসপাতাল স্থাপন এবং কূপ খনন করে জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করেন। ভিন্ন মতাবলম্বীদের সঙ্গে সংঘাতের পথ পরিহার করে তিনি শান্তি ও সমঝোতার নীতি গ্রহণ করেন। সুতরাং, তাঁর সামগ্রিক কার্যক্রম ও শাসননীতি সাম্রাজ্য বিস্তার নয়, বরং প্রজাসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন