ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দূষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কার্বন চক্র ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'খ' অঞ্চলে বিশেষ ধরনের বনভূমি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' ও 'খ' অঞ্চলের বনভূমির উদ্ভিজ্জের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবেশের কোনো উপাদানের অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষতিকর পরিবর্তন যা মানুষসহ অন্যান্য জীবজগতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাকে দূষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও জীবমণ্ডলের মধ্যে কার্বনের চক্রাকারে আবর্তনই হলো কার্বন চক্র। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে কার্বন বিদ্যমান থাকে। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে এই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে জৈব যৌগ তৈরি করে। পরবর্তীতে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে তা প্রাণীতে স্থানান্তরিত হয়। জীবদেহের শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং জীবদেহের মৃত্যুর পর বিয়োজক দ্বারা পচনের ফলে কার্বন পুনরায় কার্বন ডাই-অক্সাইড আকারে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত হয়। এভাবে পরিবেশে কার্বনের ভারসাম্য বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'খ' অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন, যা একটি স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বনভূমি।

    এ অঞ্চলে বিশেষ ধরনের ম্যানগ্রোভ বনভূমি গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. জোয়ার-ভাটার প্রভাব: এ অঞ্চলটি উপকূলীয় হওয়ায় সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে দিনে দুইবার প্লাবিত হয় এবং ভাটায় পানি নেমে যায়।
    ২. লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটি: সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এখানকার মাটি অধিক লবণাক্ত এবং পলি জমে কর্দমাক্ত থাকে।
    ৩. শ্বাসমূল ও ঠেসমূলের অভিযোজন: কর্দমাক্ত ও জলাবদ্ধ মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় উদ্ভিদের স্বাভাবিক শিকড় ছাড়াও শ্বাস গ্রহণের জন্য মাটির ওপরে চোখা চোখা শ্বাসমূল (pneumatophore) এবং নরম মাটিতে গাছকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখার জন্য কাণ্ড থেকে ঠেসমূল বা অধিমূলের সৃষ্টি হয়।

    এসব ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই 'খ' অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের এই বিশেষ বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' অঞ্চলটি হলো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সংলগ্ন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী বনভূমি এবং 'খ' অঞ্চলটি হলো সুন্দরবনের ক্রান্তীয় স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এই দুই অঞ্চলের উদ্ভিজ্জের মধ্যে লক্ষণীয় বৈসাদৃশ্য রয়েছে:

    ১. উদ্ভিদের ধরন ও পাতা: 'ক' অঞ্চলের বনভূমি প্রধানত চিরহরিৎ এবং মিশ্র পত্রপতনশীল উদ্ভিদে গঠিত। এখানকার গাছগুলো বেশ উঁচু ও দীর্ঘাকৃতির হয় এবং সারা বছর সবুজ থাকে অথবা নির্দিষ্ট ঋতুতে পাতা ঝরায় (যেমন: গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, গামারি ইত্যাদি)। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলের উদ্ভিদ চিরহরিৎ কিন্তু জোয়ার-ভাটার লবণাক্ত পরিবেশের উপযোগী বিশেষ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ (যেমন: সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর ইত্যাদি)।

    ২. শিকড়ের গঠন: 'খ' অঞ্চলের উদ্ভিদের মাটিতে অক্সিজেনের অভাবের কারণে শ্বাসমূল (Pneumatophore) এবং নরম মাটিতে টিকে থাকার জন্য ঠেসমূল থাকে। অন্যদিকে, 'ক' অঞ্চলের উদ্ভিদের মাটিতে এমন জলাবদ্ধতা না থাকায় তাদের শ্বাসমূল বা ঠেসমূলের প্রয়োজন হয় না; বরং গভীর মূলতন্ত্র থাকে।

    ৩. প্রজনন ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: 'খ' অঞ্চলের বেশ কিছু উদ্ভিদে (যেমন: গরান) গাছে ফল থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদগম হয়, যাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে, যা লবণাক্ত মাটিতে ভেসে যাওয়া রোধ করে। কিন্তু 'ক' অঞ্চলের উদ্ভিদে সাধারণ নিয়মে মাটিতেই বীজ থেকে চারা গজায়।

    ৪. কাঠের ব্যবহার ও প্রকৃতি: 'ক' অঞ্চলের গাছপালা শক্ত কাঠ ও উন্নতমানের আসবাবপত্র তৈরির জন্য উপযুক্ত (যেমন: সেগুন, গর্জন)। কিন্তু 'খ' অঞ্চলের গাছপালা প্রধানত জ্বালানি, দিয়াশলাই শিল্প, খবরের কাগজের মণ্ড এবং খুঁটি হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।

    অতএব, জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের উদ্ভিদের গঠন ও বৈশিষ্ট্যে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন