ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
হারিস সাহেব বিবিসি'র খবরে জানতে পারেন যে, হঠাৎ তীব্র কম্পনে মুহূর্তের মধ্যে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপের হাইতি শহরটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরের দিনই তিনি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখলেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি দ্বীপের ফাটল দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের গলিত পদার্থ বের হচ্ছে।
- ক)(1)
বিচূর্ণীভবনের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
সুনামি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বিবিসি প্রচারিত দুর্যোগ সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
হারিস সাহেবের পরের দিন দেখা দুর্যোগটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান দ্বারা ভূত্বকের শিলাসমূহ স্বস্থানে ফেটে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিচূর্ণীভবন (Weathering) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুনামি হলো সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট বিশালাকার এবং শক্তিশালী সামুদ্রিক ঢেউ। সমুদ্রের তলদেশে টেকটনিক প্লেটের আকস্মিক নড়াচড়ার ফলে তীব্র ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত বা বিশালাকার সাবমেরিন ল্যান্ডস্লাইড (সমুদ্রতলদেশের ভূমিধস) সংঘটিত হলে পানির বিশাল স্তরের আকস্মিক উল্লম্ব স্থানচ্যুতি ঘটে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন ও দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ঢেউ সৃষ্টি হয়, যা উপকূলে এসে সুনামির রূপ ধারণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিবিসি প্রচারিত দুর্যোগটি হলো ২০১০ সালে হাইতিতে আঘাত হানা ভয়াবহ 'ভূমিকম্প'।
ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ভূ-অভ্যন্তরে টেকটনিক প্লেটসমূহের পারস্পরিক ঘর্ষণ বা সঞ্চালন। পৃথিবী মূলত কতগুলো টেকটনিক প্লেটের ওপর ভাসমান। হাইতি ক্যারিবিয়ান প্লেট এবং উত্তর আমেরিকা প্লেটের সংযোগস্থলের একটি সক্রিয় চ্যুতি (Enriquillo-Plantain Garden Fault zone)-এর ওপর অবস্থিত। এই দুটি টেকটনিক প্লেট পরস্পরের পাশ দিয়ে সরে যাওয়ার সময় ভূ-অভ্যন্তরে প্রচুর শক্তি জমা হয়। হঠাৎ এই চ্যুতি বরাবর শিলাস্তর স্থানচ্যুত হয়ে সঞ্চিত শক্তি আকস্মিকভাবে মুক্ত হলে ভূপৃষ্ঠে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়। এছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে শিলাচ্যুতি ও স্থিতিস্থাপক প্রত্যাবর্তনের ফলেও এই তীব্র ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হারিস সাহেবের পরের দিন দেখা দুর্যোগটি হলো 'আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত'। মানবজীবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অগ্ন্যুৎপাতের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
নেতিবাচক প্রভাব:
১. জানমালের ক্ষয়ক্ষতি: ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা, লাভাস্রোত, বিষাক্ত গ্যাস ও ছাই নির্গমনের ফলে সংলগ্ন এলাকা পুড়ে ছারখার হয়ে যায় এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
২. পরিবেশ ও বায়ুদূষণ: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রচুর পরিমাণে ছাই, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সালফার ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ুদূষণ ঘটায় এবং এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
৩. গৌণ দুর্যোগ: সমুদ্র উপকূল বা দ্বীপের অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে, যা বিস্তীর্ণ উপকূল প্লাবিত করে।ইতিবাচক প্রভাব:
১. উর্বর মৃত্তিকা সৃষ্টি: লাভা ও আগ্নেয়ভস্ম কালক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত উর্বর আগ্নেয় মৃত্তিকা (যেমন রেগুর বা কালো মাটি) গঠন করে, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী।
২. নতুন ভূমিরূপ ও দ্বীপ সৃষ্টি: লাভা সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত, মালভূমি এবং সমুদ্রের মধ্যে নতুন নতুন উর্বর দ্বীপ গঠিত হয় (যেমন প্রশান্ত মহাসাগরীয় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ)।
৩. খনিজ সম্পদের উৎস: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-অভ্যন্তরের মূল্যবান খনিজ দ্রব্য (যেমন হীরা, সোনা, তামা ইত্যাদি) সহজে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে।অতএব, অগ্ন্যুৎপাত একদিকে যেমন তাৎক্ষণিক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ভূ-প্রকৃতি ও মানবকল্যাণে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও