ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মহীসোপান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সমুদ্রখাত কীভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ‘ক’ চিহ্নিত জলভাগের তলদেশের ভূমিরূপ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত জলভাগের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৃথিবীর মহাদেশগুলোর চারদিকের উপকূলীয় নিমজ্জিত অংশ যা ক্রমনিমজ্জিত হয়ে মৃদু ঢাল সৃষ্টি করে গভীর সমুদ্রে নেমে যায়, তাকে মহীসোপান (Continental Shelf) বলে। এর গভীরতা সাধারণত উপকূল থেকে ১৫০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রের তলদেশের গভীর, দীর্ঘ ও সংকীর্ণ অবনমিত অংশকে সমুদ্রখাত (Ocean Trench) বলে। মূলত পাত সংস্থান বা প্লেট টেকটনিক প্রক্রিয়ার কারণে সমুদ্রখাত সৃষ্টি হয়। যখন একটি ভারী মহাসাগরীয় পাত অন্য একটি হালকা মহাদেশীয় বা মহাসাগরীয় পাতের নিচে প্রবেশ করে (Subduction Zone), তখন সংযোগস্থলে ভূত্বক বেঁকে নিচে ধসে যায় এবং অত্যন্ত গভীর খাতের সৃষ্টি হয়। এছাড়া টেকটনিক আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট চ্যুতি বা ফাটলের ফলেও সমুদ্রখাত তৈরি হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো 'বঙ্গোপসাগর' (Bay of Bengal)। বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং একে প্রধানত নিমোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. মহীসোপান: বঙ্গোপসাগরের উত্তরে বাংলাদেশের উপকূল ঘেঁষে এক সুবিশাল অগভীর মহীসোপান রয়েছে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিপুল পলি সঞ্চিত হয়ে এ মহীসোপান গঠিত হয়েছে। এর ঢাল অত্যন্ত মৃদু।
    ২. মহীঢাল: মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে সমুদ্রের তলদেশ অত্যন্ত খাড়াভাবে নেমে গেছে। এখানে 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' (Swatch of No Ground) নামক একটি বিখ্যাত গভীর সাবমেরিন ক্যানিয়ন বা গিরিখাত রয়েছে।
    ৩. গভীর সমুদ্রের সমভূমি: মহীঢালের পর থেকে বিস্তৃত সমতল ভূমি শুরু হয়েছে, যা নদীবাহিত পলল এবং জৈব অবক্ষেপ দ্বারা গঠিত। এটি মূলত বেঙ্গল ফ্যান (Bengal Fan) নামে পরিচিত, যা পৃথিবীর বৃহত্তম নিমজ্জিত পাললিক সমভূমিগুলোর অন্যতম।
    ৪. শৈলশিরা: বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাংশে ভারতীয় পাত ও বার্মা পাতের সংযোগে ভূ-গাঠনিক শৈলশিরা ও নানা ধরনের ভূ-উত্থান দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত জলভাগ বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল উপকূলীয় দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে এই জলভাগ:
    ১. খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস: বঙ্গোপসাগরের মহীসোপান ও তলদেশে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
    ২. মৎস্য ও জৈব সম্পদ: অগভীর মহীসোপান প্লাঙ্কটন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আদর্শ প্রজননক্ষেত্র। টুনা, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ আহরণ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
    ৩. খনিজ বালু ও অন্যান্য সম্পদ: বঙ্গোপসাগরের তলদেশে এবং তটরেখায় ভারী খনিজ উপাদান যেমন—ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, মোনাজাইট ও ম্যাগনেটাইট পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত মূল্যবান।
    ৪. ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি: বঙ্গোপসাগরের তলদেশের জীব ও অজীব সম্পদের সুষ্ঠু আহরণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব।

    অতএব, বঙ্গোপসাগরের তলদেশের সম্পদসমূহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন