ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
রাজশাহীর ছেলে রাকিব তার বন্ধুর বাড়ি উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী বেড়াতে গেলো। সে প্রথম দিনেই খেয়াল করলো যে, পার্শ্ববর্তী নদীর পানির স্তর সকালের চেয়ে দুপুরে অনেক বেড়ে গেছে। এমন ঘটনায় তাকে আশ্চর্য হতে দেখে বন্ধু জানালো যে, সেখানে প্রতিদিন পানি দু'বার বেড়ে যায় আবার দু'বার কমেও যায়।
- ক)(1)
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কী?
- খ)(2)
ল্যাব্রাডার কী ধরনের স্রোত? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত পানির স্তর পরিবর্তনের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উক্ত ঘটনার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (বা বায়ুপ্রবাহের দিক ও গতি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাব্রাডার হলো একটি শীতল সমুদ্রস্রোত।
উত্তর মেরু সংলগ্ন সুমেরু মহাসাগর থেকে বরফগলা শীতল ও ভারী জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডার স্রোতের সৃষ্টি করে। এই স্রোত গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল ও কানাডার পূর্ব উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয় এবং অত্যন্ত শীতল হওয়ায় এটি উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বহুলাংশে কমিয়ে দেয় ও ঘন কুয়াশার সৃষ্টি করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পটুয়াখালী জেলার নদীতে পানির স্তরের নিয়মিত হ্রাস-বৃদ্ধি বা জোয়ার-ভাটার ঘটনা নির্দেশ করা হয়েছে। নদীর পানির স্তর পরিবর্তনের প্রধান কারণসমূহ হলো:
১. চাঁদের মহাকর্ষ বল: চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করায় পৃথিবীর জলরাশির ওপর এর আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। ফলে চাঁদের সম্মুখবর্তী স্থানে জলরাশি ফুলে উঠে জোয়ার হয় এবং তার বিপরীত স্থানেও প্রতিপাদ জোয়ার সংঘটিত হয়।
২. সূর্যের মহাকর্ষ বল: সূর্য চাঁদের চেয়ে অনেক বড় হলেও এর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এর আকর্ষণ শক্তি চাঁদের চেয়ে কম। তবে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করলে উভয়ের যৌথ আকর্ষণে পানির স্তর ব্যাপক বৃদ্ধি পায় (তেজ কটাল)।
৩. পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল (আহ্নিক গতি): পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারদিকে অনবরত ঘূর্ণনের কারণে একটি বহির্মুখী বা কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়, যার ফলে চাঁদের বিপরীত দিকের জলরাশিও ফুলে ওঠে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে।এসব প্রাকৃতিক ও মহাকর্ষীয় শক্তির পারস্পরিক ক্রিয়ায় দিনে দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাটা সংঘটিত হয়ে পানির স্তর পরিবর্তিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি হলো জোয়ার-ভাটা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল যেমন পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, সুন্দরবন ইত্যাদিতে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
১. নৌ-চলাচল ও বন্দর পরিচালনা: জোয়ারের সময় নদী ও মোহনায় পানির গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মতো প্রধান নৌবন্দরগুলোতে বড় বড় সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। ভাটার সময় জাহাজগুলো আবার সাগরে ফিরে যায়।
২. পলি অপসারণ ও নাব্যতা রক্ষা: ভাটার তীব্র টানে নদীর মোহনা থেকে পলি ও আবর্জনা সমুদ্রের গভীরে ভেসে যায়, যা উপকূলীয় নদীগুলোর নাব্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৩. কৃষি ও লবণাক্ততা: জোয়ারের সময় নদীর পানির সাথে অতিরিক্ত লবণাক্ত সামুদ্রিক পানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কৃষিভূমির ক্ষতিসাধন করতে পারে। এই কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
৪. লবণ উৎপাদন ও মৎস্য চাষ: উপকূলীয় মানুষ জোয়ারের লোনা পানি বাঁধ দিয়ে আটকে রেখে রৌদ্রে শুকিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লবণ তৈরি করে এবং জোয়ারের পানি ব্যবহার করে চিংড়ি ঘেরে মাছ চাষ করে।
৫. ম্যানগ্রোভ বনভূমির অস্তিত্ব: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির জীববৈচিত্র্য ও শ্বাসমূলীয় উদ্ভিদের টিকে থাকা সম্পূর্ণভাবে নিয়মিত জোয়ারের মিষ্টি ও লোনা পানির মিশ্রণ এবং ভাটার ওপর নির্ভরশীল।সুতরাং, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, প্রকৃতি ও জীবনযাত্রায় জোয়ার-ভাটার ভূমিকা অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও