সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
রাইসুল ইসলাম একজন সম্পদশালী ব্যবসায়ী ও ধর্মভীরুলোক। তিনি তার সম্পদের একটি বৃহৎ অংশ ইসলাম ধর্মের বিধান অনুসারে ধর্মীয় জনহিতকর কাজে সত্ত্বত্যাগ করে দান করেন। তার বন্ধু ব্যবসায়ী কৃষ্ণপদ রায়ও তার সম্পদের এক তৃতীয়াংশ হিন্দু ধর্ম মতে দেবতার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠায় দান করেন। উভয়ের দানে মানব কল্যাণের পথ সুগম হয়েছে।
- ক)(1)
সরাইখানা কি?
- খ)(2)
সামাজিক নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাইসুল ইসলামের দানকে কি বলা যায়, ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাইসুল ইসলাম ও কৃষ্ণপদ রায়ের দান মানব কল্যাণে কি অবদান রাখছে, তা ব্যাখ্যা কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরাইখানা হলো প্রাচীন ও মধ্যযুগে পর্যটক, মুসাফির ও পথিকদের সাময়িক বা রাত্রিযাপনের জন্য নির্মিত বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধাযুক্ত বিশ্রামাগার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিরাপত্তা বলতে রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক গৃহীত এমন সব সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা অসুস্থতা, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব বা অন্য কোনো আকস্মিক দুর্যোগের সময় নাগরিকদের আয়হীনতা বা দারিদ্র্য থেকে সুরক্ষা প্রদান করে ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাইসুল ইসলামের দানকে ইসলামি সমাজকল্যাণ কাঠামোর আলোকে 'ওয়াকফ' (Waqf) বলা যায়।
ইসলামি শরিয়ত মতে, কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলিম যদি তাঁর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ওপর থেকে নিজস্ব মালিকানা চিরতরে প্রত্যাহার করে তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবকল্যাণ ও ধর্মীয় জনহিতকর কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করেন, তাকে ওয়াকফ বলে। উদ্দীপকে রাইসুল ইসলাম নিজের সম্পদের বৃহৎ অংশ শর্তহীনভাবে ধর্মীয় বিধানমতে মানবকল্যাণে দান করায় এটি ওয়াকফের উজ্জ্বল উদাহরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাইসুল ইসলামের 'ওয়াকফ' এবং কৃষ্ণপদ রায়ের 'দেবোত্তর' সনাতন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানব কল্যাণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ অবদান রাখছে।
প্রথমত, রাইসুল ইসলামের ওয়াকফকৃত সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় ও সুযোগ-সুবিধা মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল পরিচালনা এবং সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্থায়ী আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণপদ রায়ের দেবোত্তর সম্পত্তির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে এতিম, অসহায় ও অভিভাবকহীন শিশুরা আশ্রয়, শিক্ষা ও ভরণপোষণ পেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পায়।
ধর্মীয় মূল্যবোধজাত এ ধরনের স্থায়ী ও নিঃস্বার্থ দান সমাজের অসহায় জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, বৈষম্য হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করতে মৌলিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও