যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

অল্পশিক্ষিত আমেনা বৃষ্টি হতে দেখে কোহেলীকে বললো, হাতি শূরের মাধ্যমে পানি উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলে বৃষ্টি হয়। একথা শুনে কোহেলী হেসে বৃষ্টির কারণ হিসেবে বললো, সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে একপর্যায়ে তা ভারি হয়ে নিচে নেমে বাতাসের সংস্পর্শে এসে বৃষ্টি হয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে থাকে।

  1. ক)

    মিশ্রকার্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'ঈশ্বর' পদের ব্যাখ্যাদান সম্ভব নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    কোহেলীর বক্তব্যে কোন প্রকার ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যাখ্যার প্রকারভেদের আলোকে আমেনা ও কোহেলীর বক্তব্যের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একাধিক কারণ বা কারণের শর্ত একত্রিত হয়ে যখন একটি অবিভাজ্য ও ভিন্নধর্মী নতুন কার্য উৎপন্ন করে, তখন সেই সম্মিলিত কার্যকে মিশ্রকার্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ঈশ্বর' পদের ব্যাখ্যাদান সম্ভব নয়, কারণ ব্যাখ্যা কেবল সেইসব বস্তু বা বিষয়ের ক্ষেত্রেই সম্ভব যা বিশ্লেষণযোগ্য, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অথবা কোনো উচ্চতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

    যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যা মূলত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় এবং কোনো জটিল বিষয়কে সহজতর ও জ্ঞাত বিষয়ের সঙ্গে সংযুক্তকরণের প্রক্রিয়া। ঈশ্বর একটি চরম, পরম, অসীম এবং অনুপম সত্তা। তিনি কোনো উচ্চতর জাতিভুক্ত নন এবং তাঁর কোনো কার্যকারণিক জাগতিক উপাদান নেই যাকে বিশ্লেষণ করা যায়। তাই যুক্তিশাস্ত্রীয় বা বৈজ্ঞানিক কোনো রূপেই ঈশ্বর পদের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোহেলীর বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'র প্রতিফলন ঘটেছে।

    কোনো ঘটনার অন্তর্নিহিত প্রাকৃতিক বা কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কার করে, ব্যক্তিগত অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিযুক্তভাবে তা বিশ্লেষণ করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে।

    উদ্দীপকে কোহেলী বৃষ্টির কারণ হিসেবে প্রকৃতির বাস্তব নিয়মের উল্লেখ করেছে—সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয়ে উপরে ওঠা, ঘনীভূত ও ভারী হয়ে মেঘের সৃষ্টি করা এবং পরিশেষে বৃষ্টির ফোঁটা আকারে পতিত হওয়া। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞানসম্মত রূপ। ফলে কোহেলীর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যার প্রকারভেদের আলোকে আমেনার বক্তব্যটি 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং কোহেলীর বক্তব্যটি 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত ভিত্তি: আমেনার ব্যাখ্যাটি ভিত্তিহীন কল্পনা, কুসংস্কার ও অজ্ঞতাপ্রসূত (যেমন: হাতি শুঁড় দিয়ে পানি ছুঁড়ে দেওয়া)। পক্ষান্তরে, কোহেলীর বক্তব্যটি বিজ্ঞানসম্মত, বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং জলচক্রের কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্ক: লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না; বরং বাহ্যিক বা অলীক কারণ আরোপ করা হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকৃতির বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারণ নিয়ম উদঘাটন করা হয়।

    ৩. ব্যক্তিনিষ্ঠতা বনাম বস্তুনিষ্ঠতা: আমেনার লৌকিক ব্যাখ্যাটি ব্যক্তিনিষ্ঠ, অন্ধবিশ্বাসভিত্তিক এবং একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। অপরদিকে, কোহেলীর ব্যাখ্যাটি সার্বজনীন, সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ, যা দেশ-কাল নির্বিশেষে সবার কাছে একই রূপ।

    ৪. যাচাইযোগ্যতা: লৌকিক ব্যাখ্যার কোনো পরীক্ষণযোগ্যতা বা প্রমাণ থাকে না, যা আমেনার বক্তব্যে স্পষ্ট। কিন্তু কোহেলীর ব্যাখ্যার সত্যতা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই প্রতিপাদনযোগ্য।

    অতএব, আমেনা ও কোহেলীর বক্তব্যের পার্থক্যের মাধ্যমে লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মৌলিক বৈপরীত্যটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন