‍ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

'Z' একটি বড় রাজ্যের শাস্ত্রক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর আশেপাশের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি দেখেন যে, পরস্পর বিবদমান ক্ষুদ্র রাজ্যগুলো তার সাহায্য গ্রহণে উদগ্রীব। তিনি সুযোগটি কাজে লাগান। 'Z' কিছু শর্তসাপেক্ষে সামরিক সাহায্য দিয়ে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন।

  1. ক)

    মহীশূরের হায়দার আলীর রাজধানীর নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    সতীদাহ প্রথা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'Z'-এর সাথে তোমার পঠিত কোন গভর্নর জেনারেলের গৃহীত নীতির মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নীতি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহীশূরের হায়দার আলীর রাজধানীর নাম ছিল শ্রীরঙ্গপত্তনম (বা শ্রীরাঙ্গাপাট্টাম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সতীদাহ প্রথা ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজের একটি অমানবিক প্রথা, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জ্বলন্ত চিতায় জীবন্ত বিধবা স্ত্রীকে আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করা হতো। সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে নারীদের ওপর এই নির্মম প্রথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইনের মাধ্যমে এই বর্বরোচিত প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'Z'-এর সাথে আমার পঠিত ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির গৃহীত 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' (Subsidiary Alliance)-র মিল রয়েছে।

    লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার এবং ব্রিটিশদের একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৭৯৮ সালে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন। এই নীতির মূল কথা ছিল—দেশীয় রাজ্যগুলোর পারস্পরিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া, বিনিময়ে রাজ্যে একদল ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন রাখা এবং এর ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে বহন করতে বাধ্য করা। উদ্দীপকে 'Z' ঠিক একই কায়দায় পরস্পর বিবদমান ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সামরিক সাহায্য ও নিরাপত্তার শর্তসাপেক্ষে চুক্তি করেন, যা মূলত লর্ড ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতিরই নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড ওয়েলেসলির প্রবর্তিত ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য ও সাম্রাজ্য বিস্তারে এক যুগান্তকারী ও চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছিল।

    এ নীতির মাধ্যমে ইংরেজরা বিনা ব্যয়ে বিরাট সামরিক বাহিনী পোষার সুযোগ পায়, কারণ মিত্রতাপাশে আবদ্ধ রাজ্যগুলোই ব্রিটিশ সৈন্যদলের যাবতীয় খরচ জোগাত। তাছাড়া দেশীয় রাজারা পররাষ্ট্র সম্পর্কের স্বাধীনতা হারিয়ে কোম্পানির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যান। তারা কোনো যুদ্ধ ঘোষণা বা অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব করার ক্ষমতা হারান। ফলে ধীরে ধীরে এসব রাজ্যের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়।

    হায়দরাবাদের নিজাম সর্বপ্রথম এই অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অযোধ্যার নবাব, পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও, তাঞ্জোর, সুরাট ও অন্যান্য দেশীয় রাজ্য এই ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ না করেও ব্রিটিশরা অতি সহজে ও অত্যন্ত কম খরচে ভারতের বিশাল ভূখণ্ডের উপর নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। এই নীতি দেশীয় রাজাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে সর্বোচ্চ শক্তিতে পরিণত করে। অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উক্ত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন