বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বার্থান্ধ মানুষের লোভের কারণে এই পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইতিহাস সাক্ষী এসব হত্যাকাণ্ডের সাথে অর্থলিন্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যেমন জড়িত তেমনিভাবে জড়িত থাকে খুব কাছের মানুষ এবং অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তিবর্গ। যার উদাহরণ-জুলিয়াস সিজার, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলাকে কোথায় বন্দী করা হয়?
- খ)(2)
"সিরাজ আমার কেউ নয়"-ঘসেটি বেগম কেন একথা বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে সিরাজদ্দৌলার করুণ পরিণতির সাদৃশ্য বিচার কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চেতনাগত দিক অনেকটাই ধারণ করতে পেরেছে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিরাজউদ্দৌলাকে ভগবানগোলার কাছে এক ফকিরের (দানশাহ ফকির) মাধ্যমে চিনে ফেলে মীর কাশিমের সৈন্যরা বন্দী করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর ক্ষমতার পথে প্রধান অন্তরায় এবং নবাবের কারণেই তাঁর রাজক্ষমতা লাভের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছিল বলে তীব্র অন্ধ আক্রোশে ঘসেটি বেগম একথা বলেছেন।
ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার আপন বড় খালা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি চেয়েছিলেন পালিত পুত্র শওকত জঙ্গকে নবাব বানিয়ে পর্দার আড়াল থেকে স্বয়ং শাসনক্ষমতা পরিচালনা করবেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় তাঁর সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট হয়। ফলে সিরাজের প্রতি তাঁর সীমাহীন ঈর্ষা ও শত্রুতা তৈরি হয়। নিজের পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক ভুলে গিয়ে অন্ধ আক্রোশে ও ঘৃণায় তিনি উক্তিটি করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমির সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের আগ্রাসী তৎপরতা রোধ করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আশপাশের অতি আপনজন ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা—যেমন খালা ঘসেটি বেগম, প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখ অর্থলোভ ও ক্ষমতার মোহে ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নৃশংসভাবে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে স্বার্থান্ধ মানুষের লোভ, অর্থলিপ্সা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে অনেক মহান নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিশেষত এই ষড়যন্ত্রে সবসময় জড়িত ছিল তাঁদের খুব কাছের এবং প্রিয়ভাজন ব্যক্তিবর্গ। সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছিল; বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে তাঁর পরম ঘনিষ্ঠ সেনাপতি ও আত্মীয়রাই তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তাই উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতি পরিপূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডির চেতনাগত দিক অর্থাৎ ক্ষমতার লোভ, স্বার্থান্ধতা এবং কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাকে যথার্থভাবে ধারণ করতে পেরেছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল প্রতিপাদ্য হলো দেশপ্রেমের সাথে দেশদ্রোহিতার সংঘাত। সিরাজউদ্দৌলা যখন দেশ ও জাতির স্বার্থে ইংরেজদের রুখতে উদ্যত হয়েছিলেন, তখন ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে তাঁর দরবারের প্রধান অমাত্য ও সেনাপতিরা চরম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মীর জাফর, যিনি নবাবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রধান সেনাপতি ছিলেন, তিনিই নবাবের পতনের মূল স্থপতি। প্রিয়জনদের এই চরম বিশ্বাসভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই নবাবের করুণ পরিণতি ঘটেছিল এবং বাংলা হারায় তার স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে ইতিহাসের এমন একটি চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ, অর্থলোভ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কাছের মানুষদের হাতেই সিজার, গান্ধী বা বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতাদের নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল ট্র্যাজেডিও ঠিক এই জায়গাটিতেই নিহিত। সিরাজউদ্দৌলা বহিঃশত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রুদের দ্বারাই বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন। ঘসেটি বেগম ও মীর জাফরের মতো রক্তের কিংবা পরম বিশ্বাসের মানুষদের ক্ষমতালিপ্সাই নবাবের জীবন ও বাংলার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা ও অন্ধ স্বার্থলিপ্সার কারণে ঘটিত ট্র্যাজেডিই যেহেতু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের অন্যতম প্রধান সুর, তাই উদ্দীপকটি নাটকটির সেই অন্তর্নিহিত চেতনাগত দিককে অনেকটাই ধারণ করতে পেরেছে—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও