জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

জহির সাহেব শিক্ষার্থীদের কাছে ইমিউন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণকারী একটি হরমোনের কথা বললেন যাহা বিশেষ এক ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। অবশ্য প্রযুক্তিটির পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বও অপরিসীম।

  1. ক)

    জিনোম সিকোয়েন্স কী?

    (1)
  2. খ)

    TPA বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হরমোন জাতীয় পদার্থটির উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষের উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জীবের কোষে উপস্থিত সামগ্রিক বংশগতীয় বস্তুর (জিনোমের) নাইট্রোজেনাস বেসগুলোর পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস নির্ণয় করার পদ্ধতিকে জিনোম সিকোয়েন্স বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    TPA এর পূর্ণরূপ হলো Tissue Plasminogen Activator। এটি একটি বিশেষ ধরনের এনজাইম বা প্রোটিন যা মানবদেহের রক্তনালীতে সৃষ্ট রক্তজমাট (blood clot) ভেঙে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগীদের হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমিউন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণকারী পদার্থটি হলো ইন্টারফেরন (অথবা থাইমোসিন/রিকম্বিন্যান্ট হরমোন যেমন ইনসুলিন)। নিচে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি উৎপাদনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
    ১. কাঙ্ক্ষিত জিন শনাক্তকরণ ও পৃথকীকরণ: মানুষের সুস্থ শ্বেতরক্তকণিকা বা কোষের জিনোম থেকে কাঙ্ক্ষিত হরমোন/ইন্টারফেরন উৎপাদনকারী জিনটি রেস্ট্রিকশন এনজাইমের সাহায্যে কেটে পৃথক করা হয়।
    ২. উপযুক্ত বাহক (প্লাজমিড) নির্বাচন ও কর্তন: ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাজমিড ডিএনএ আলাদা করা হয় এবং একই রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে প্লাজমিডের নির্দিষ্ট অংশ কাটা হয়।
    ৩. রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ তৈরি: লাইগেজ এনজাইমের সহায়তায় কর্তিত প্লাজমিডে কাঙ্ক্ষিত জিনটি যুক্ত করে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ অণু তৈরি করা হয়।
    ৪. পোষক কোষে প্রবেশ (ট্রান্সফরমেশন): এই রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিডকে উপযুক্ত গ্রাহক ব্যাকটেরিয়া (ই. কোলাই) কোষে প্রবেশ করানো হয়।
    ৫. ক্লোনিং ও উৎপাদন: রূপান্তরিত ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অনুকূল পুষ্টি মাধ্যমে ফার্মেন্টারে কালচার করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে কাঙ্ক্ষিত হরমোন বিপুল পরিমাণে সংশ্লেষিত হয়।
    ৬. নিষ্কাশন ও পরিশোধন: কালচার মাধ্যম থেকে উৎপাদিত পদার্থটিকে পৃথক ও পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষের উক্তিটি হলো "প্রযুক্তিটির পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বও অপরিসীম।" প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বায়োটেকনোলজি। পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর। নিম্নে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়োরিমেডিয়েশন: রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বিশেষ রূপান্তরিত ব্যাকটেরিয়া (যেমন Pseudomonas putida) সমুদ্র ও জলাশয়ে নিঃসৃত ক্ষতিকর খনিজ তেল এবং পেট্রোলিয়াম হাইড্রোকার্বন দ্রুত বিশ্লিষ্ট করে পরিবেশ দূষণমুক্ত করে।
    ২. কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস: বিটি (Bt) প্রযুক্তির মাধ্যমে জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ক্ষতিকর পতঙ্গ প্রতিরোধী শস্য (যেমন বিটি বেগুন, বিটি তুলা) উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বহুলাংশে কমেছে, যা মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ রক্ষা করে।
    ৩. ভারী ধাতু অপসারণ: জিন প্রকৌশলজাত অণুজীব ব্যবহার করে শিল্পবর্জ্যের ক্ষতিকর ভারী ধাতু যেমন লেড, ক্যাডমিয়াম ও পারদ নিষ্কাশন ও বিপাক করা সম্ভব হচ্ছে।
    ৪. প্লাস্টিক দূষণ রোধ: বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার জিন রূপান্তর করে দ্রুত পচনশীল বায়োপ্লাস্টিক তৈরি করা হচ্ছে এবং ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে অপচনশীল প্লাস্টিক ধ্বংস করার গবেষণা সফল হচ্ছে।
    ৫. নর্দমার পানি শোধন: বিশেষ জিনের সাহায্যে পরিশোধক ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে পয়ঃনিষ্কাশন ও শিল্প-কারখানার দূষিত পানি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে।

    সুতরাং, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিহার্য, যা উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন