সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
এয়ারপোর্টে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানকৃত স্বর্ণ ধরা পড়ে। এর সাথে সংশ্লিষ্টরা রাজস্ব কর্মকর্তা মুমিনুল হককে এক কোটি টাকা দিতে চাইলেও তিনি তাতে রাজি না হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরকালের জবাবদিহিতাই তাকে দুর্নীতির ব্যাপকতার মাঝেও ঘুষ গ্রহণ না করে সৎ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
- ক)(1)
ল্যাটিন শব্দ Religere এর অর্থ কি?
- খ)(2)
গণমাধ্যম বলতে কি বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মমিনুলের সততায় কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন শব্দ 'Religere' (বা 'Religare')-এর অর্থ হলো একত্রে বাঁধা, সংযুক্ত করা বা পুনরায় একত্র করা (to bind together)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণমাধ্যম বলতে এমন সব মাধ্যম বা যোগাযোগ প্রযুক্তিকে বোঝায়, যার সাহায্যে একই সাথে বিপুল সংখ্যক জনগণের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য, সংবাদ, বিনোদন ও শিক্ষা পৌঁছানো যায়। যেমন—সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মমিনুল হকের সততায় 'ধর্ম' নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিফলন ঘটেছে।
ধর্ম হলো এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান যা অতিপ্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা মানুষের আচার-আচরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে। পরকালে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও খারাপ কাজের জন্য শাস্তির ধারণা প্রতিটি ধর্মের অন্যতম মূল শিক্ষা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজস্ব কর্মকর্তা মমিনুল হককে এক কোটি টাকার প্রলোভন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি চোরাচালানকৃত স্বর্ণ আটক করেন এবং ঘুষ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর এই নৈতিক দৃঢ়তা ও সততার মূল কারণ ছিল পরকালের জবাবদিহিতা। যেহেতু পরকাল ও নৈতিকতার চেতনা ধর্ম থেকেই উৎসারিত, সেহেতু মমিনুল হকের এই আচরণে ধর্ম নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ধর্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর।
ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মানুষের ভেতরের বিবেক ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে ধর্মের প্রভাব অপরিসীম।
সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে ধর্মের ভূমিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা: ধর্ম অন্যায়, অপরাধ, মিথ্যা, চুরি, দুর্নীতি, ব্যভিচার ও শোষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। মমিনুল হকের ঘুষ বর্জনের মতো ঘটনা ধর্মের অভ্যন্তরীণ নৈতিক নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ।
২. পরকালের ভয় ও জবাবদিহিতা: মানুষ বাহ্যিক আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও ধর্মবিশ্বাস তাকে মনে করিয়ে দেয় যে স্রষ্টার কাছে প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করতে হবে। এই ভয় মানুষকে গোপনে অপরাধ করা থেকেও বিরত রাখে।
৩. সামাজিক সংহতি ও শান্তি রক্ষা: ধর্ম সমাজে পারস্পরিক সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পরোপকারের শিক্ষা দিয়ে বিশৃঙ্খলা দূর করে।
৪. অপরাধপ্রবণতা হ্রাস: ধর্মীয় অনুশাসন নিয়মিত চর্চা করলে মানুষের মনে আত্মশুদ্ধি ঘটে, যা সমাজে মাদকাসক্তি, চোরাচালান ও সহিংসতার মতো সামাজিক ব্যাধি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ও মূল্যবোধসম্পন্ন শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে ধর্ম একটি শক্তিশালী ও অপরিহার্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও