‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে সকল জনগণের স্বার্থে একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঐ রাজনৈতিক দলের নিকট বৈষম্যের স্বীকার হয়। ফলে তারা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করে। শাসকগোষ্ঠী নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানায় এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করে।

  1. ক)

    বঙ্গভজোর সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিগত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত রাজনৈতিক দল গঠনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল (ভাইসরয়) ছিলেন লর্ড কার্জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্যার সৈয়দ আহমদ খান কর্তৃক প্রবর্তিত আলীগড় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ভারতীয় মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা দূর করা। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশদের সাথে মুসলমানদের তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব দূর করে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন করাই ছিল এই আন্দোলনের লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব পাঠ্যপুস্তকের ১৯০৬ সালের 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।

    ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও ধীরে ধীরে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার ফলে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় নিজেদের স্বার্থ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তীব্র আন্দোলন মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্ট করে তোলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মূল রাজনৈতিক দলে বৈষম্যের শিকার হয়ে নিজেদের স্বার্থ ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পৃথক দল গঠন করে। একইভাবে, কংগ্রেসের ভেতরে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষিত না হওয়ায় ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে নওয়াব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে মুসলিম নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়েছিল। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক দল অর্থাৎ 'মুসলিম লীগ' গঠনের প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। নিম্নে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও দাবি প্রকাশ: মুসলিম লীগ গঠনের ফলে ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমেই পরবর্তীতে ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের জন্য ‘পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা’ (Separate Electorate) আদায় করা সম্ভব হয়।

    ২. রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা: কংগ্রেসের একাধিপত্যের বিপরীতে মুসলিম লীগ একটি ভারসাম্য তৈরি করে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের অধিকার, চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সুরক্ষার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার শুরু করে।

    ৩. হিন্দু-মুসলিম দূরত্ব বৃদ্ধি: জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে মুসলমানদের আলাদা প্ল্যাটফর্ম হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের মেরুকরণ ঘটায়। কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় রত থাকায় মুসলিম লীগের সাথে তাদের বিরোধ ক্রমান্বয়ে প্রকাশ্য রূপ নেয়।

    ৪. দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান আন্দোলন: কালক্রমে মুসলিম লীগ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং 'দ্বিজাতিতত্ত্ব' প্রচার করে। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলিম লীগের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

    সুতরাং, মুসলিম লীগ গঠন তৎকালীন অখণ্ড ভারতের রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িক ও আঞ্চলিক স্বাধিকারের রূপরেখায় নিয়ে যায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন