ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
সামরিক শাসক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করেন। নির্বাচনে তার পছন্দের দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে অপর দলটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে প্রাদেশিক ও জাতীয় আইন পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে উক্ত সামরিক শাসক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করতে থাকেন। একপর্যায়ে অধিকার বঞ্চিত হয়ে বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতার ডাক দেন।
- ক)(1)
ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান'-এর বর্তমান নাম কী?
- খ)(2)
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নির্বাচনের মিল রয়েছে। ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পিছনে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী”- তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিজয়টি বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে যে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তা-ই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। ছাত্র সমাজের ১১ দফা ও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সামরিক শাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর পছন্দের দল পরাজিত হয় এবং অপর একটি দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সামরিক শাসক নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন এবং অধিকারবঞ্চিত হয়ে বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতার ডাক দেন।
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৭টি এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ২৮৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ও সামরিক জান্তা আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর ফলে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। উদ্দীপকের ঘটনাপ্রবাহ হুবহু ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পটভূমি ও পরিণতির প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পিছনে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী”— বিশ্লেষণটি সর্বাংশে সত্য।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মোড়। আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ৬ দফার ভিত্তিতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় প্রদান করে। নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগই ছিলেন সমগ্র পূর্ব বাংলার মানুষের অবিসংবাদিত নেতা ও দল।
এই বিজয়ের ফলেই আন্তর্জাতিক মহলে বাঙালিদের দাবির সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে গণহত্যা শুরু করে, তখন বাঙালিরা এই নির্বাচনের ম্যান্ডেটকে পুঁজি করেই বিশ্ব দরবারে নিজেদের অধিকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পেরেছিল। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ বিজয়ই ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দান করে এবং পরবর্তীতে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেও বৈধতা দেয়।
সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি নিজেদের পৃথক অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে যে অবিস্মরণীয় রায় দিয়েছিল, তা-ই ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও